বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি : আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফল জালিয়াতির মামলায় পুলিশের চার্জশিটে বড় গরমিল ঢাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের আরও ২টি এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এসবিএসি ব্যাংকে বাংলা কিউআর উদ্বোধনে র‌্যালি দেশে সারের সংকট নেই, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত আছে: তথ্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র নবায়নের শেষ সময় ২৯ অক্টোবর
advertisement
খেলাধুলা

ফুটবলার না হয়েও আর্জেন্টিনার ৩টি মেজর ট্রফি জয়ের নেপথ্য নায়ক: কে এই মাতিয়াস মান্না?

মোঃ ওয়াসিম আকরাম ।।

​আমরা সবাই লিওনেল মেসি, লিওনেল স্কালোনি বা পাবলো আইমারদের চিনি। কিন্তু আর্জেন্টিনার ডাগআউটে বসে চশমা চোখে ল্যাপটপ স্ক্রিনে মগ্ন থাকা যে মানুষটি নীরবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেন, তাকে কজন চিনি? 

তিনি মাতিয়াস মান্না (Matías Manna) আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মূল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভিডিও অ্যানালিস্ট।

​কোনো পেশাদার ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড না থেকেও স্রেফ ফুটবল দর্শন আর মেধা দিয়ে বিশ্বজয়ের অংশ হওয়ার এক অবিশ্বাস্য গল্প তার!

​ব্লগিং থেকে চিলির ডাগআউট: এক রূপকথার শুরু
​গল্পটা ২০০৭ সালের। কমিউনিকেশনে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে মাতিয়াস তার ফুটবলীয় আবেগ প্রকাশ করতে বেছে নেন ব্লগিং। পেপ গার্দিওলার ট্যাকটিক্স আর বার্সেলোনার 'টিকি-টাকা'র প্রেমে পড়ে তিনি নিয়মিত বিশ্লেষণধর্মী লেখা শুরু করেন। পরে লিখে ফেলেন বিখ্যাত বই "Paradigma Guardiola" (Guardiola Paradigm)। তার এই ফুটবল দর্শন এতটাই গভীর ছিল যে, স্বয়ং পেপ গার্দিওলা বুয়েনস আইরেসে এসে তার সাথে দেখা করেছিলেন।

​কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন ফুটবলের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান মার্সেলো বিয়েলসা (Marcelo Bielsa) তার ব্লগের লেখা দেখে মুগ্ধ হন। একজন নন-ফুটবলার হওয়া সত্ত্বেও বিয়েলসা ২০০৭ সালে তাকে চিলি জাতীয় দলের অ্যানালিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেন! একজন ব্লগারের জাতীয় দলের ডাগআউটে পৌঁছানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে বিয়েলসা কতটা দূরদর্শী ছিলেন।

​চিলির সোনালী অধ্যায় ও আর্জেন্টিনার ডাগআউট
​বিয়েলসার পর হোর্হে সাম্পাওলি যখন চিলির দায়িত্ব নেন, তখনও মাতিয়াস ছিলেন তার বিশ্বস্ত সঙ্গী। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আর্জেন্টিনার বুক ভেঙে চিলির যে ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা জয়, তার পেছনেও ছিল মাতিয়াসের নিখুঁত অ্যানালিসিস।  এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে সাম্পাওলির হাত ধরেই তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাথে যুক্ত হন।

​স্কালোনি জমানার 'থিংক ট্যাংক' এবং লিওনেল মেসির প্রিয়পাত্র
​২০১৮ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা দলের খোলনলচে বদলে যায়। লিওনেল স্কালোনি যখন প্রধান কোচ হন, তিনি মাতিয়াসের মেধার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন আছে, অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং কোচিং স্টাফের বাকি সদস্যরা মাতিয়াসের ম্যাচের আগের ভিডিও প্রেজেন্টেশন এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিতকরণের রিপোর্টের ওপর ভীষণ ভরসা করেন। কোপা আমেরিকা ২০২১, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে প্রতি ম্যাচ অনুযায়ী আর্জেন্টিনার যে নিখুঁত ও ভিন্ন ভিন্ন গেমপ্ল্যান আমরা দেখেছি, তার মাস্টারমাইন্ড এই মান্না!

​আধুনিক ফুটবল: যেখানে মেধার জয় নিশ্চিত
​আজকের ফুটবল যতটা ফিজিক্যাল, ঠিক ততটাই ট্যাকটিক্যাল। মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি পর্দার পেছনের এই অ্যানালিস্টদের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাতিয়াস মান্না প্রমাণ করেছেন, ফুটবলার না হয়েও ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, যদি আপনার থাকে নিখুঁত দূরদর্শিতা আর গভীর ভালোবাসা।

​আর্জেন্টিনার ডাগআউটের এই 'লো-প্রোফাইল' জিনিয়াসকে স্পটলাইটে আনা উচিত। কোপাকুলো বা বিশ্বমঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পেছনে ক্যামেরার আড়ালে থাকা এই মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ