সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম
বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হলেন তামিম বিএসইসি’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ Price Sensitive Information of Doreen Power Generations and Systems Ltd. ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়লো রামিসা হত্যা: - দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির লাশ বাড়িতে, সাতক্ষীরায় শোকের মাতম মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক চালু করল "এমটিবি ট্রেড এক্স": - যেকোনো সময় ও স্থানে স্মার্ট ট্রেডের আধুনিক সুবিধা আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু - পরিবারপ্রতি ক্ষতিপূরণ ৮০ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু নোয়াখালীতে ১৪২ কেজি জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
advertisement
আইন-আদালত

শিশু রামিসা হত্যা: স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড,

রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা, দ্রুত কার্যকরের দাবি

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলায় মূল আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আদালত এই রায় ঘোষণা করলেন।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রায় যখন বাস্তবে কার্যকর হবে, তখন আমি শতভাগ সন্তুষ্ট হব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ এ মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি চাই প্রত্যেকটি রামিসা হত্যার বিচার হোক। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর না হয়। যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর চাই।’

রায় ঘোষণার আগে প্রদত্ত পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পূর্বে শিশুটিকে ধর্ষণ ও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামি সোহেল স্বেচ্ছায় আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না করায় প্রমাণিত হয় যে, সে স্বজ্ঞানে এই অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন মূল অপরাধীকে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহায়তা করেছেন।"

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরদিন ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মাত্র একদিনেই মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। এরপর ৩ জুন আত্মপক্ষ শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও তা আদালতে টিকেনি।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় আসামিদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান তারা।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আসামি সোহেল রানা স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, সাবলেটের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে দেখতে পেয়ে তিনি তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে রামিসা চিৎকার শুরু করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি তাকে মৃত মনে করেন। পরে অপরাধের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশে একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা রামিসাকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটির মা তার কক্ষের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান এবং তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজন তার কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি একটি রেঞ্চ ব্যবহার করে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলেন।

সোহেল জবানবন্দিতে আরও বলেন, বাইরে লোকজন যখন দরজায় ক্রমাগত ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী দরজা আটকে রেখে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খুলে দেন।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ