শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম
বাংলাদেশকে ১.১ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের “সাব-ব্রাঞ্চ বিজনেস পারফরম্যান্স রিভিউ মিটিং-২০২৬” অনুষ্ঠিত ঢাকায় আসছেন আতিফ আসলাম রোববার জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন ইতালিতে নোয়াখালীর একই পরিবারের ৩ জন নিহত, প্রবাসীর বন্ধুর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় - চীন ও মালয়েশিয়ায় দেশের মানুষের স্বার্থই রক্ষা করেছি: প্রধানমন্ত্রী ডিবিএর মধ্যস্থতায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার ট্রেডিং পুনরায় চালু দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর মরজালে লটকনের বিশাল পাইকারি বাজার
advertisement
সারাদেশ

মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ(মমেক)হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ৫৮ শিশুর মৃত্যু হলো। গত২৪ ঘণ্টায় নতুন আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ শিশু।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডাঃ ঝন্টু সরকার।

মারা যাওয়া ৪ মাস বয়সী কন্যা শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের শাপলা বাজারে। গত ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শিশুটির মৃত্যু। হামের লক্ষণের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলরে আক্রান্ত ছিল বলে শিশুর মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে ৪ মাস বয়সী ছেলে শিশুটির বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুরের পলাশকান্দা এলাকায়। গত ২ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ৪ মাস বয়সী ছেলে শিশুটির বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দার মাইশারচর এলাকায়। গত ১৬ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এছাড়াও ৮ মাস বয়সী ছেলে শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার মদনপুর এলাকায়। গত ৮ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।

গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় দুই হাজার ৩৭৮ শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছে দুই হাজার ২২৬ শিশু, মৃত্যু হয়েছে ৫৮ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে কোনো শিশুকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এ সময়ে কোনো শিশুকে ঢাকায় পাঠানোও হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক থেকে দু'জন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা মনোয়ার খাতুন আতঙ্ক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত সাত দিনে আমার চোখের সামনে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন মা হিসেবে আমি খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার ছেলে দিদারুল আলমের অবস্থাও ভালো নয়। শিশুদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই একজন বা দু'জন করে মারা যাচ্ছে। এভাবে মৃত্যু বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এত বড় একটি হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নেই। আইসিইউ ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এতগুলো শিশুর মৃত্যু হতো না। সরকারের উচিত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা। আমি এখন কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ডাঃ ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় নতুন ১৯ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ