শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু বেক্সিমকো ফার্মার ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোল বন্দরে রপ্তানি ঘাটতি ১ লাখ ৯০ হাজার টন ফাইল নেই, ভাস্কর্যও নেই - ঝিনাইদহে বিতর্কিত চত্বর অপসারণে বেরিয়ে এলো দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য শ্রীমঙ্গলে ওয়ালটন ক্যাবলসের বার্ষিক ডিলার কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত Credit Rating Information of Beximco Pharmaceuticals PLC. ময়মনসিংহ মেডিকেলে নারীসহ ১৪ দালাল গ্রেফতার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা - ৪৫ বছর পর আটক দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মেজর মোজাফফর
advertisement
জাতীয়

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা

৪৫ বছর পর আটক দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক মেজর মোজাফফর

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। 

ডিবি জানিয়েছে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ২৯ মে এক সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে গভীর রাতে একদল সেনাসদস্য তাকে হত্যা করে। বিপথগামী সেনাসদস্যরা তার মরদেহ চট্টগ্রামের রাউজানের গভীর জঙ্গলে কবর দেয়।

তিনদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়, লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ শেরেবাংলা নগরে তার জানাজায় শরিক হন। পরে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।

বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed.’

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ