সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

তৃণমূল পর্যায়ে যাচ্ছে দুদকের নজর

এবার ইউনিয়ন পর্যায়েও 'দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি' গঠনের উদ্যোগ

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) কার্যক্রম। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে নতুন এই কর্মসূচি যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নতুন অর্থবছর থেকে তা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন আরও গতিশীল হবে।

দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে এই কমিটি গঠিত হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে এবং সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। তবে অতীতে এ ধরনের কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। অতীতের দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন কাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।"

দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হবে সাত সদস্যবিশিষ্ট। কমিটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

কমিটিতে একজন সভাপতি ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল সদস্য থাকবেন।

আইন অনুযায়ী, কমিটিতে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক।

সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

কারা সদস্য হতে পারবেন না:
বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি এবং ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরা এই কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, "দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।"

দুদকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় রয়েছে। গত এক বছরে এসব কমিটির উদ্যোগে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত র‍্যালি, মানববন্ধন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

টিআইবি প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে এই কমিটি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। বিশেষ করে—বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, তা কমিয়ে আনতে এই কমিটিগুলো পাহারাদারের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ