January 15, 2026 - 2:00 am
তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৭৭
Homeকর্পোরেট-অর্থ ও বাণিজ্যঅর্থ-বাণিজ্যস্বর্ণে বিনিয়োগের সেরা নানা মাধ্যম

স্বর্ণে বিনিয়োগের সেরা নানা মাধ্যম

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বজুড়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে স্বর্ণের মূল্য সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বাংলাদেশেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণ ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে স্বর্ণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা মাধ্যম রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ভিন্ন সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করে।

চকচক করলেই সোনা হয় না, তা ঠিক। কিন্তু এটাও সত্য, চলতি বছর সোনার দাম বাড়ছে। এ বছর রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে সোনা। ফলে সোনার চকচকে ভাব আরও বেড়েছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি দাম বেড়েছে সোনার। এমনকি চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম সর্বকালীন রেকর্ড আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭৪৮ ডলারে উঠে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোনায় বিনিয়োগের বিভিন্ন মাধ্যম আছে দেখে নেওয়া যাক, সোনায় বিনিয়োগের মাধ্যমগুলো কী কী। খবর সিএনএন

প্রথম প্রথম যাঁরা সোনা কিনবেন, তাঁদের জন্য বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কী উদ্দেশ্যে সোনা কেনা, তা ঠিক করা। এটা কি আপনার বিনিয়োগ বহুমুখী করার লক্ষ্যে, নাকি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে তা ঠিক করা।

এরপরের প্রশ্ন হলো, কীরূপে সোনা কেনা হবে। উন্নত দেশে অবশ্য সুযোগ আছে, বিনিয়োগ হিসেবে কেউ সোনা কিনতে চাইলে গোল্ড ব্যাকড এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ করা যায়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর শেয়ার ব্রোকারসহ ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট বা হিসাবের প্রয়োজন হয়; প্রয়োজন পড়ে ডিম্যাট (অনলাইন পোর্টফোলিও) হিসাবের। এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারীরা খুব সামান্য পরিমাণ সোনাতেও বিনিয়োগ করতে পারেন। ইটিএফে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা মাশুলের প্রয়োজন হয় না।

সোনায় বিনিয়োগের আরেকটি মাধ্যম হলো ডিজিটাল সোনা। অনেক দেশে সোনার দোকান ও বিনিয়োগকারী সংস্থার অনলাইন সাইট থেকে ডিজিটাল সোনা কেনা যায়। সে ক্ষেত্রে ভোক্তাকে মজুরি দিতে হয় না ও সোনা খাঁটি কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে না। এত সুবিধা হলো কোথায় সোনা রাখা হবে, তা নিয়েও ভাবতে হয় না। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এই ডিজিটাল সোনা কেনা যায়।

কোনো কোনো দেশে গোল্ড বন্ডও আছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা হাতে সোনা না পেলেও সোনায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই বন্ডের মেয়াদ ও সুদহার নির্ধারণ করা থাকে। মেয়াদের আগেও কেউ এই বন্ড ভেঙে ফেলতে পারেন। বিনিয়োগের দিক থেকে এই পদ্ধতি বেশ সুরক্ষিত।

প্রথাগত গয়না কেনার পাশাপাশি সোনার কয়েন বা বার কেনা যায়। সে ক্ষেত্রে হলমার্ক চিহ্ন যাচাই করে সোনা কিনতে হয়।

সরাসরি সোনা কেনার সময় এটাও ভেবে দেখা উচিত, এই সোনা আবার বিক্রি করতে হতে পারে। সে জন্য কোথা থেকে সেই সোনা কেনা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য বিশ্লেষকদের পরামর্শ, বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে সোনা কেনা উচিত।

যেসব কারণে চলতি বছর সোনার দাম বেড়েছে, তার মধ্যে আছে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা। ভারত ও চীনের মতো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার-নির্ভরতা হ্রাসও সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা দোকান কস্টকো এক আউন্সের বুলিয়ন বার বাজারে ছাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আর ১০টা পণ্য কেনার মতো সোনার বার কেনাও সহজ হয়েছে। ফলে সোনার পালে রীতিমতো হাওয়া লেগেছে। এই প্রবণতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। অতীতেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রবণতা দেখা গেছে।

স্বর্ণ কেনার মূল প্রণোদনা হলো মানুষ মনে করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্টক, বন্ড বা মুদ্রার তুলনায় সোনা থেকে বেশি লাভবান হওয়া যাবে। অর্থনীতি নিম্নমুখী হলে সোনা প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলাবে।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল অর্থাৎ পশ্চিমা পৃথিবীতে আর্থিক মন্দার সময় সোনার দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুসারে, সোনার প্রোডিউসার প্রাইস ইনডেক্স বা পিপিআইয়ের মান এই সময় ১০১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। ওই সময় অনিশ্চয়তা ছিল তুঙ্গে। স্বাভাবিকভাবে তখন সোনার দাম বেড়েছে।

সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির বিশেষ সম্পর্ক নেই বলেই গবেষকেরা মনে করেন। সোনার দাম বাড়ার মূল কারণ হলো ভয় ও আতঙ্ক। সেই ১৯৩০ সালের মহামন্দার সময় থেকেই দেখা যাচ্ছে, সংকট এলেই সোনার দাম বাড়ে। গোল্ড প্রাইস ডটকমের তথ্যানুসারে, ১৯৭০ সালের সংকটের সময় সোনার দর আউন্সপ্রতি ৩৫ ডলার বেড়ে ৫২৫ ডলার হয়েছিল; ১৯৮০ সালে সেই দর হয় ৬১৫ ডলার। ১৯৯০ সালে সেটি অনেক কমে ৩৮৩ ডলারে নেমেছিল।

কিন্তু ২০০৮ সালে আবার অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ার পর ২০১১ সালে সোনার দর অনেকটা বেড়ে যায়; তখন দাম ওঠে ১ হাজার ৯০০ ডলারে। অবশ্য ২০১৫ সালের দিকে সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ ডলারে নেমে এলেও বেশি দিন সেই দামে থাকেনি। এর পর থেকে দাম কেবল বেড়েছেই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

বর্তমানে ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়, বছরব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকি

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক: বর্তমানে ডেঙ্গু আর মৌসুমি রোগ নয়; বরং এটি সারা বছরব্যাপী একটি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মাসভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন আর...

সিইএস ২০২৬-এ ভবিষ্যতের টেলিভিশন প্রযুক্তি তুলে ধরল স্যামসাং

কর্পোরেট ডেস্ক: ইলেকট্রনিক পণ্যের মেলা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস) ২০২৬ শেষ হয়েছে। এবার মেলায় প্রদর্শিত হয় ভবিষ্যতের নানা প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্মার্ট...

নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়াতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার দক্ষিণ সুল্লুকিয়া গ্রামের...

সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ

পুঁজিবাজার ডেস্ক: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচক বাড়লেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন।...

প্রাইম ফাইন্যান্সের পর্ষদ সভা ২০ জানুয়ারি

পুঁজিবাজার ডেস্ক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড পর্ষদ সভা আগামী ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য...

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ...

বিশ্বকাপ ফুটবল ট্রফি এখন ঢাকায়

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি বিশ্ব ভ্রমণ করছে। তারই অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি ঢাকায় এসেছে। তবে ট্রফিটি সবার...

সাতক্ষীরায় ইয়াবা-দেশীয় অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ৩

শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা, ৪২০ পিস ইয়াবা ও ৬টি দেশীয় দেশীয় অস্ত্রসহ...