ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ পর্দা নামার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, এরপরই জানা যাবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা কে হবে। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলবিশ্ব সাক্ষী হবে এক ঐতিহাসিক ফাইনালের, যেখানে মুখোমুখি হবে দুই পরাশক্তি—স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
হাফটাইম শো ও ফিফার সিদ্ধান্ত
ফাইনালের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর হাফটাইম শো। শুরুতে জল্পনা ছিল যে, শাকিরা, ম্যাডোনা ও জাস্টিন বিবারের মতো বিশ্বতারকাদের পারফরম্যান্সের কারণে বিরতি হয়তো দীর্ঘ হবে। কিন্তু ফিফা নিশ্চিত করেছে, ম্যাচের ছন্দ ও খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে বিরতি কোনোভাবেই ১৭ মিনিটের বেশি বাড়ানো হবে না। এই সময়ের মধ্যেই মঞ্চ প্রস্তুত করা, শিল্পীদের পরিবেশনা এবং মাঠের ঘাসের পরিচর্যা শেষ করতে হবে।
মাঠের পরিস্থিতি ও স্পেনের উদ্বেগ
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ নিয়ে স্পেন শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। আগের কিছু ম্যাচে বলের গতি কম এবং মাঠ শুষ্ক মনে হওয়ায়, আয়োজকরা ফাইনালের আগে ঘাস কাটা এবং পানি ছিটানোর মতো বিশেষ পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছে। তবে তীব্র গরমের কারণে দুই অর্ধে নির্ধারিত 'হাইড্রেশন বিরতি' আগের মতোই বহাল থাকছে, যাতে ফুটবলাররা সতেজ থাকতে পারেন।
যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা
এই আয়োজনে এবার যোগ হয়েছে রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতি। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এছাড়া মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ বাড়াতে স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির লড়াইকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেমিফাইনালের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে আর্জেন্টিনা ও স্পেন উভয়ই এখন জয়ের ব্যাপারে সমান আত্মবিশ্বাসী।
স্মরণীয় এক রাতের অপেক্ষায়
সব মিলিয়ে এই ফাইনাল কেবল একটি শিরোপার লড়াই নয়, বরং সংগীত, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন এবং ফুটবলের এক অনন্য মেলবন্ধন হতে যাচ্ছে। ১৭ মিনিটের বিরতিতে বিশ্বতারকাদের পারফরম্যান্স এবং মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই মিলে ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে এই ফাইনাল।