ব্যাটার ও বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানের জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৩২ রানে হারের পর এই জয়ে সিরিজে দারুণভাবে ফিরে এল তাওহিদ হৃদয়ের দল।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়েই তারা সংগ্রহ করে ৫৪ রান। ১৩তম ওভারে উদ্বোধনী জুটি স্পর্শ করে ১০০ রানের মাইলফলক। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির সপ্তম শতরানের নজির।
দলীয় ১২০ রানে ভাঙে এই জুটি। রির্চাড এনগারাভার বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৫৮ রান করেন সাইফ। জীবন পাওয়া ও ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক। এরপরের ওভারেই তানজিদ হাসানও সাজঘরে ফেরেন ৪৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় (৬), পারভেজ হোসেন ইমন (১) ও নুরুল হাসান (৪) দ্রুত ফিরে গেলে ১৭তম ওভারে ১৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে ষষ্ঠ উইকেটে ইয়াসির আলি ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। ইনিংসের শেষ ওভারে ব্রাড ইভান্সের প্রথম চার বলে টানা চার ছক্কা হাঁকান সাইফুদ্দিন। দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০ বলে ৩১ রানের দুর্দান্ত ক্যামিও ইনিংস খেলেন সাইফুদ্দিন এবং ইয়াসির ১২ বলে অপরাজিত ২২ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে এনগারাভা ও ইভান্স ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে ১৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারে মাহেদি হাসান ফেরান তাদিওয়ানামে মারুমানিকে (৪)। এরপর নাহিদ রানা ব্রায়ান বেনেটকে (১১) এবং মাহেদি ফের ডিওন মায়ার্সকে (৪) বোল্ড করলে ২১ রানেই ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
চতুর্থ উইকেটে মিল্টন শুম্বা ও সিকান্দার রাজা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও, রিশাদ হোসেনের জোড়া আঘাতে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। রিশাদ পরপর দুই ওভারে শিকার করেন শুম্বা (১৯) ও রাজাকে (২৮)। ৬৮ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে শেষ দিকে রায়ান বার্ল (২৯) ও ব্রাড ইভান্সের (২৫) ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতেই ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ২৬ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এছাড়া মাহেদি হাসান ৩টি এবং নাহিদ রানা, সাইফুদ্দিন ও সাইফ ১টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৩১ রান ও বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
আগামীকাল ১৯ জুলাই একই ভেন্যুতে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।