লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া রাতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে ম্যাচের দুটি গোলই করেন ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭ গোলের একক নতুন রেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন তিনি।
ডালাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করে বসেন মেসি। ৯ম মিনিটে বক্সের ভেতর লাউতারো মার্টিনেজকে অস্ট্রিয়ার দুজন ডিফেন্ডার ফাউল করলে ভিএআর (VAR)-এর সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি আমিন মোহাম্মদ। তবে মেসির দুর্বল স্পট কিকটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পেনাল্টি মিসের এই ধাক্কা অবশ্য মেসি দ্রুতই কাটিয়ে ওঠেন তার স্বভাবসুলভ জাদুকরী পারফরম্যান্সে।
ম্যাচের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ান অধিনায়ক ডেভিড আলাবা ও গোলরক্ষক আলেক্সান্দার শ্লাগারের দারুণ রক্ষণভাগের কারণে মেসির কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে ৩৮ মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। ফাকুন্ডো মেদিনার পাস থেকে থিয়াগো আলমাদার চমৎকার অ্যাসিস্টে নিজের ট্রেডমার্ক বাঁ পায়ের শটে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মেসি। এই গোলের সাথেই ইতিহাস বইয়ের পাতায় নতুন করে লেখা হয় তার নাম।
অন্যদিকে, জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা রাল্ফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার রক্ষণে কোনো সুবিধাই করতে পারেনি। প্রথমার্ধে তারা গোলমুখে কোনো শটই নিতে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা অবশ্য নিজেদের চেনা ছন্দ কিছুটা হারিয়ে ফেলে। উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ তৈরি করতে পারছিল না আলবিসেলেস্তেরা। তবে অস্ট্রিয়াও এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি; পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে তারা মাত্র একবারই পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছিল।
ম্যাচের ভাগ্য যখন প্রায় নির্ধারিত, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে আবারও জ্বলে ওঠেন মেসি। চারজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বক্সের ভেতর থেকে একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন এই মহাতারকা। আর এই গোলের সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার দাপুটে জয়।