বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
শিরোনাম
তাড়াশের চার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা জেলহাজতে বিশ্বকাপ ঘিরে সক্রিয় সাইবার প্রতারকরা, সতর্ক করল ক্যাসপারস্কি মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে বিআরটিএর জরুরি নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আইসিএমএবি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বুলেট ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ যমুনার ভাঙনে চৌহালী: হুমকিতে জনপদ ও ধর্মীয় স্থাপনা ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি - এইচএসসিতে নকল মিললে কেন্দ্র প্রধানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ২৯ জুন প্রাইম ফাইন্যান্সের বোর্ড সভা প্রথম প্রান্তিকে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার প্রতি আয় বাড়ল ১.৫৩ টাকা
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

সিরাজগঞ্জে খিরা-শসা চাষে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: কম খরচ ও ভাল দাম পেয়ে আগাম খিরা চাষ করায় সিরাজগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। খিরা ও শসা চাষ বাম্পার ফলনে পাইকার ও বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে খিরা ও শসার হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে শত শত টন। প্রতিমণ খিরা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ ও শসা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে তিন গুণ বেশি। উপযোগী আবহওয়া থাকায় ও গাছের রোগবালাই না হওয়ায় প্রতিবছরই খিরা-শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নতুন নতুন কৃষকেরা।

উত্তরাঞ্চলের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত এখানকার উৎপাদিত খিরা ও শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ক্ষীরার আড়ৎ থেকে ৬০ ও ৭০ টন ক্ষীরা ও শসা ঢাকা’সহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে জেলায় খিরা ৩১৪ হেক্টর ও শসা ৩৯৩ চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় খিরা ১০ ও শাসা ২৫, কামারখন্দে খিরা ১১ ও শসা ১২, তাড়াশে খিরা ২২০ ও শসা ৭, কাজিপুরে শাসা ১০, চৌহালীতে খিরা ৫ ও শসা ১৫, উল্লাপাড়ায় খিরা ৫০ ও শসা ৩০০, শাহজাপুরে খিরা ৫ ও শসা ১৫, বেলকুচিতে খিরা ১ ও শসা ১, রায়গঞ্জে খিরা ১২ ও শসা ৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর’) উল্লাপাড়ার কয়ড়া চরপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক কৃষাণীরা খিরা ও শসা তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা খিরা ও শসা জমির ভিতরে বস্তায় ভরছেন। দূর-দূরান্তের পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, গত ১ মাস ধরে কৃষকরা জমি থেকে আগাম খিরা ও শসা তুলে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। এই কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চরবর্দ্ধনগাছা ও চাকশা আড়তে খিরা কেনাবেচা শুরু হয়েছে। তবে বিক্রির জন্য কৃষকদের দিতে হয় না কোনো খাজনা।

চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ক্ষীরা ও শসা চাষ করতে প্রায় ১৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা থেকে উৎপাদিত ক্ষীরা বিক্রি হয় ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ আবাদে পোকা-মাকড়ের ঝামেলা কম, তাই কৃষকের আগ্রহ বেশি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছর আগাম খিরা ও শসা চাষাবাদ হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বন্যার পানি নেমে যাবার পর পরই উঁচু জমিতে কৃষকরা এ চাষাবাদ করেন। অল্প খরচে ঝামেলাবিহীন এই চাষাবাদ করে কৃষকরা বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করে থাকেন। দাম ভাল পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, সিরাজগঞ্জে যেকোন শস্য চাষের জন্য উপযোগী। শীত মৌসুমে জেলায় ৭০৭ হেক্টর জমিতে খিরা ও শসা চাষ হয়েছে। সার্বক্ষণিক উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। ভালো ফলন হওয়ায় চাষাবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। সামনে আরও বেশি আবাদ হবে বলে আশাবাদী।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ