শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিল সোফি বাংলাদেশ নিবেদিত 'মনের কথা'-এর তৃতীয় পর্ব বৃক্ষরোপন প্রকল্পে দুর্নীতি - বাঁশ ও গোবর সার কাণ্ডে সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ নোয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত বড় ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে ছোট ভাই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর নরসিংদীতে  ৪ শিশুর মৃত্যু - একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি কবরে দাফন নারী বন্দির পলায়ন - কাশিমপুর কারাগারের ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, দেশে ফিরতে ঘুরছে পথে পথে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে টিকিট বিক্রি পদ্ধতি বদলাতে ফিফাকে আদালতের নির্দেশ জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুর মৃত্যু
advertisement
সারাদেশ

নরসিংদীতে  ৪ শিশুর মৃত্যু

একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি কবরে দাফন

নরসিংদীর রায়পুরায় খালে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারানো চার শিশুর একসঙ্গে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে| গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়| পরে পার্শ্ববর্তী সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত চার শিশু হল-রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), মো. রবেলের মেয়ে জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। তারা সবাই স্থানীয় গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের একটি খালে গোসল করতে নেমে তাদের মৃত্যু হয়।

চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল বলেন, চার শিশুর বাড়ি পাশাপাশি, তারা একসঙ্গেই খেলাধুলা করত। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে একসঙ্গে খালে গোসল করতে গিয়ে মারা গেল| তাই স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের একসঙ্গে জানাজা ও পাশাপাশি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চার পরিবারই দরিদ্র
সরেজমিন পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত চার শিশুর পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র| তাবিয়ার বাবা শামীম মিয়া একজন দিনমজুর। আয়েশার বাবা রবেল মিয়া বিভিন্ন বাজারে কলা বিক্রি করেন| জান্নাতের বাবা মো. রবেল এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আর সুমাইয়ার বাবা বিল্লাল মিয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুকনা মৌসুমে খালটিতে পানি না থাকলেও বর্ষায় সেটি কানায় কানায় ভরে যায়। নিহত চার শিশুর কেউই সাঁতার জানত না| তারা কাউকে কিছু না জানিয়েই খালে গোসল করতে নেমেছিল। 

নিহত তাবিয়ার বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘স্টেশনে ঢাকার ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলাম। ট্রেনে উঠার সময় বাড়ি থেকে কল দিয়া কইলো, মেয়ে পানিত পড়ছে। দৌড়ায়ে হাসপাতালে গিয়া দেহি মেয়ের লাশ পড়ে আছে। আমার একটা মাত্র মেয়ে, আর নাই| কেমনে কী হইল, কিছুই জানি না। মেয়ের তো মাদ্রাসায় থাকার কথা আছিল, সে খালে গেল কেমনে?’
নিহত আয়েশার বাবা রবেল মিয়া টিনের ঘরের এক কোণে বসে কান্না করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘অভাবের সংসারে মেয়ের দুষ্টুমি আর হাসিখুশি মুখ দেখে কষ্ট ভুলে থাকতাম| ওই মেয়েটিই আর নাই। এখন কাকে আদর করব।’ 

ময়নাতদন্ত ছাড়াই চার শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার শিশুর পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, নিহত চার শিশুর পরিবারের সদস্যরা লাশের ময়নাতদন্ত চাননি| তাঁদের কোনো অভিযোগ না থাকায় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে চার শিশুর লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়| পরে বিকেলে স্বজনেরা লাশগুলো এলাকায় নিয়ে যান।

রায়পুরায় চার শিশুর মৃত্যুর শোক না কাটতেই আবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামের ভেলুয়ারচরে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে|

মৃত দুই শিশু হলো ভেলুয়ারচর এলাকার নুরজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি আক্তার (৮) ও সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে নিপা আক্তার (৭)। 

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জান্নাতি ও নিপা মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন নদী থেকে তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান| সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন জররি বিভাগের চিকিৎসক।

হাসপাতালটির জররি বিভাগের চিকিৎসক শীলা আক্তার বলেন, বেলা পৌনে একটার দিকে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের কারোরই হৃৎস্পন্দন পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গেছে জানিয়ে ওসি মজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ