26 C
Dhaka
মার্চ ৬, ২০২১
Corporate Sangbad | Online Bangla NewsPaper BD
সম্পাদকীয়

ব্যাংকিং আইন পরিপালনে পরিচালক ও এমডিদের সম্পদের হিসাব চাওয়া একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত

সম্পাদকীয় : সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে ব্যপকহারে বেড়ে গেছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। ব্যাংকগুলো যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। তাই ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্যে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সম্প্রতি দেশের ব্যাংক সেক্টরের আলোচিত প্রতিটি কেলেঙ্কারিতেই কোনো না কোনোভাবে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ খুঁজে পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে আসছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালক-ব্যাংকারদের নাম। অভিযুক্ত এসব পরিচালক ও ব্যাংকারদের নামে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশে পাচারেরও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সম্পদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এখন থেকে প্রতিবছর সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পরিচালক ও তার নিচের দুই স্তরের কর্মকর্তাদের সব ধরনের সম্পদ বিবরণী স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে তার পারিবারিক ব্যবসার তথ্যও দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব তথ্য, সংশ্লিষ্ট বাংককে সংরক্ষণ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।

যদিও ব্যাংকের পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সম্পদের তালিকা জমা দেয়ার নির্দেশনাটি অনেক পুরনো। ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮ ধারার ২ উপধারায় এ বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। আইনে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সুস্পষ্ট থাকলেও তা দীর্ঘদিনেও অনুসরণ করা হয়নি। কিছু ব্যাংক এ নির্দেশনা অনুসরণ করলেও তা থেকে বিরত থেকেছে বেশির ভাগ ব্যাংকই। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো আইন অনুযায়ী পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সম্পদের হিসাব রাখছে কিনা, সে বিষয়টিও এতদিন খতিয়ে দেখেনি।

গড়ে ১৫ জন করে ধরলেও দেশে ৬১টি ব্যাংকের পরিচালক সংখ্যা ৯০০-এর বেশি। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার নিম্নতর দুই স্তরের কর্মকর্তাদের সংখ্যাও অনেক। এতসংখ্যক মানুষের সব সম্পদের বিষয়টি দেখভাল করা কঠিন হলেও তা অসম্ভব ব্যপার নয়।

এছাড়া এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল ব্যাংকগুলো পরিদর্শনের সময় পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সম্পদের তথ্য ঠিকমতো জমা হচ্ছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সব তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও জমা দেবে। এর মাধ্যমে যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তকাজ সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের সম্পদের তথ্য জমা দেয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় গত ২১ জানুয়ারি । দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এর অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৮ ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী, ব্যাংক-কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী ও তার নিম্নতর দুই স্তর পর্যন্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ বাণিজ্যিক, আর্থিক, কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও অন্য বিবরণ এবং পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিবরণ লিখিতভাবে পরিচালনা পর্ষদের কাছে বার্ষিক ভিত্তিতে দিতে হবে। এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।এতে আরো বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ওই বিধান মানার জন্য প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার নিম্নতর দুই স্তর পর্যন্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ বাণিজ্যিক, আর্থিক, কৃষি, শিল্প এবং অন্যান্য ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য বিবরণ এবং পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিবরণ প্রতি পঞ্জিকা বছর শেষে পরবর্তী বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দাখিল করতে হবে যা একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।

তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২০ সালের জন্য এ-সংক্রান্ত বিবরণী চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাংকে দাখিল করা যাবে। দাখিলকৃত বিবরণীগুলো ব্যাংকের পরবর্তী পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে। ব্যাংক-কোম্পানিগুলোর এসব বিবরণী যথাযথভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংক খাতে সুশাসনের জন্যই পরিচালক ও শীর্ষ ব্যাংকারদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্যে স্বচ্ছতা থাকা দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নতুন করে নির্দেশনা দেয়ায় বিষয়টি এখন থেকে সঠিকভাবে পরিপালিত হবে।


আরো খবর »

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারের সাথে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

Tanvina

আইন দিয়ে ধর্ষণ রোধ সম্ভব নয়; প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

Tanvina

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির বিষয়ে বিএসইসির পদক্ষেপ প্রসংশনীয়

Tanvina