আজ রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ে নামছে ফুটবল বিশ্বের এই দুই পরাশক্তি।
বিশ্বকাপে এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর আগের পাঁচবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে লড়াইয়ের হিসেবে এগিয়ে আলবিসেলেস্তেরা; নকআউটে তিনবারের দেখায় দুবারই জয়ী হয়েছে আর্জেন্টিনা।
দুই দলের বিশ্বকাপের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস:
১৯৬২ (চিলি বিশ্বকাপ): গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম দেখায় জয় পায় ইংল্যান্ড।
১৯৬৬ (ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ): কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে ইংলিশরা।
১৯৮৬ (মেক্সিকো বিশ্বকাপ): কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে। ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ৫১ মিনিটে দিয়াগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি আজও আলোচনার তুঙ্গে। পরবর্তীতে ম্যারাডোনা গোলটি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আর একটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ ম্যাচ জিতে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত সে বছর শিরোপা জয় করে।
১৯৯৮ (ফ্রান্স বিশ্বকাপ): শেষ ষোলোর লড়াই নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা।
২০০২ (দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ): গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে।
২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমী। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাস নতুন করে লেখা হয় নাকি পুরনো আধিপত্য বজায় থাকে।
| বছর | পর্যায় | ফলাফল |
| ১৯৬২ | গ্রুপ পর্ব | ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা |
| ১৯৬৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা |
| ১৯৮৬ | কোয়ার্টার ফাইনাল | আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড |
| ১৯৯৮ | শেষ ষোলো | আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (টাইব্রেকারে ৪-৩ জয়ী আর্জেন্টিনা) |
| ২০০২ | গ্রুপ পর্ব | ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা |