বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম
জাতীয়

১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে
‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
 
এর আগে বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। 
 
এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
 
অনুষ্ঠানে একে একে অন্যান্য মনোনীত ব্যক্তিদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সমাজসেবা, জনপ্রশাসন, গবেষণা এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকেও এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, যারা মুক্তিযুদ্ধ, চিকিৎসা, পল্লী উন্নয়ন ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
 
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
 
এ ছাড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
 
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, যা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদেরকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

এই সম্পর্কিত আরো