দেশের চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলো পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উপযোগী রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি সরকারের অবস্থান ও গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, “জনগণের সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
পরীক্ষা স্থগিত: বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৫টি জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিকল্প সুযোগ: বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্য কোনো অঞ্চলের কোনো পরীক্ষার্থী যদি পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারাও চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার দিনেই সেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
প্রশ্নে ভুল ও পূর্ণ নম্বর: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ওই প্রশ্নে সবাইকে ‘ফুল মার্কস’ (পূর্ণ নম্বর) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা: মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কেন্দ্রে যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিলে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা সময় বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিতে পারবে।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে কেবল একটি কেন্দ্রে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় দেওয়া হয়। একটি কেন্দ্রের বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
ড. মাহদী আমিন বলেন, “মিথ্যা, পুরোনো ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উস্কানি গণ-আকাক্সক্ষার পরিপন্থী। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যখন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন বিভ্রান্তি ছড়ানো দুঃখজনক।”
পরিশেষে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের আতঙ্ক বা দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশের প্রতিটি নাগরিককে পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।