বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
নতুন আইন কার্যকর - অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা গায়ে হলুদের একদিন আগে কনের মৃত্যু সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্ন শার্শায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে ৫৮ বোতল বিদেশি মদসহ কারবারি গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখল নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশিকা, লঙ্ঘন করলে আইনি ব্যবস্থা জুলাই মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার ফাইন্যান্সএশিয়া’র তিন পুরস্কার পেল আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

সঞ্চয়পত্রের বকেয়া পরিশোধ ৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : সঞ্চয়পত্র খাতে সরকার বেশি সুদ দিতে চায় না। এজন্য বিক্রি কমানোর উদ্যোগ হিসেবে সুদের হার কমিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপের কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস নেমেছে। সদ্য বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে সরকার উল্টো আসল ও সুদসহ মোট ৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

তথ্য মতে, সদ্য বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ সময় আগের বিক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের মূল বাবদ পরিশোধ করা হয় ৩ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা ও সুদ বাবদ ৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ ডিসেম্বরে সরকার আসল ও সুদসহ মোট ৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এতে শুধু ডিসেম্বরেই সঞ্চয়পত্র থেকে টাকা সংগ্রহের পরিবর্তে উল্টো ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা কোষাগার কিংবা ধার করে পরিশোধ করেছে সরকার।

এদিকে চলতি বছরের অক্টোবরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি তো হয়ইনি; বরং উল্টো ৯৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৭০ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। এ নিয়ে টানা চার মাস সঞ্চয়পত্রে ঋণাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার আগের মাস আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার। এর বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে এই খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার, উল্টো ৩ হাজার ১০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কোষাগার ও ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেছে। এ অর্থ বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ১৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। সেখানে প্রথম ছয় মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে পূর্বের বিক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মাসে সরকার সংগ্রহ করেছিল ২০ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা; অর্থাৎ পুরো অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকারের যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার চেয়ে ৪৮৭ কোটি টাকা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত অর্থবছরে বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। এই টাকা সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য খরচ করেছিল। সে কারণে ব্যাংক থেকে খুব একটা ঋণ নিতে হয়নি।

এর আগে সঞ্চয়পত্র বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পর থেকেই বিক্রি কমছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ