সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম
সারাদেশ

খেয়াল খুশি মতো আসে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-কর্মচারীরা, ভোগান্তিতে রোগীরা

সাইফুল ইসলাম তানভীর: পদ্মা নদীর ভাঙ্গন কবলিত উপজেলা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর। দুর্গম এ উপজেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ভরশীল একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর। আর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মতো চিকিৎসক ও কর্মচারীরা আসেন না কর্মস্থলে। আবার কোয়ার্টারে থাকা অনেকেই সকালে এসে সময়মতো হাজিরা দিয়ে চলে যান। পরে গোসল, খাওয়া-দাওয়া করে ৯-১০টার মধ্যে আবার আসেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরজমিনে দেখা যায়, বর্হিবিভাগের সিটিজেন চার্টারে বহির্বিভাগের সেবা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২.৩০টা পর্যন্ত লেখা থাকলেও আউটডোর ভবনের গেট খোলা হয় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। ৮টা ৪৮ মিনিটে ফার্মেসি খোলেন ফার্মাসিস্ট বীরেন্দ্র কুমার মন্ডল। এদিকে সাংবাদিকদের দেখে তড়িঘড়ি লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিবর্তন করে ৮টা ৫৩ মিনিটে টিকিট কাউন্টার খুলেন অফিস সহকারী সাইদুর রহমান। অনভিজ্ঞ সাইদুর ঠিক মতো টিকিট দিতে না কাউন্টারের সামনে রোগীর ভিড় লেগে যায়। এসময় সাইদুর রহমান বলেন, টিকিট কাউন্টারে যে বসে তিনি ছুটিতে আছেন। প্রিন্টারে সমস্যার কারণে হাতে লিখে টিকিট দিচ্ছেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা গেছে অস্থির অবস্থায় যে যার মতো যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ছুটে আসতে। ৮টা ৪১ মিনিটে আউটড্রেস পরে হাজিরা (ফিঙ্গার) দেন নার্স ঝর্ণা আক্তার। ৮টা ৪২ মিনিটে তড়িঘড়ি করে আসেন অফিস সহায়ক মো. রজ্জব আলী খান। ৮টা ৫৫ মিনিটে ১১২নং রুমে রোগী দেখতে আসেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. সোহেল রানা।

সকাল ৯টা ৩ মিনিটে আসেন হারবাল সহকারী মো. রেজাউল করিম। ৯টা ১৪ মিনিটে মেডিকেল অফিসারের রুমে আসেন ডা. কাবেরী দাস। তিনি বলেন, ‘আমি রাউন্ডে ছিলাম। অথচ, সাড়ে নয়টার পরে সেখানে ডাঃ পলাশ চন্দ্র সূত্রধর এস বলে আজকে তার আউটডোর। । ততক্ষনে চলে যান ডাঃ কাবেরী দাস। ৯টা ৪৫ মিনিটে আসেন ল্যাব টেকনোলজিস্ট শ্যামা প্রসাদ সরকার। ৯টা ৫৩ মিনিটে আসেন গাইনী কনসালটেন্ট ডা. মুর্শিদা খাতুন। সকাল ১১টা পর্যন্ত আসেননি ইউনানী মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোকছেদ আলী এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. তারেকুজ্জামান। মুঠোফোনে ডা. তারেকুজ্জামান বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং ডা. মো. মোকছেদ আলী বলেন, আমি আজ ছুটি নিয়েছি।

ডাক্তার দেখাতে আসা সালেহা বেগম বলেন, টিকিট কেটে বসে আছি। ডাক্তার এখনো আসে নাই। তাই বসে আছি। সট্টি থেকে আসা আয়শা বেগম বলেন, সকাল ৮টা থেকে এসে বসে আছি। কেউ এখনো আসেনি। হাসপাতালে ডাক্তাররা ঠিকমতো আসেন না। সকালে এসে অপেক্ষা করতে হয়। এতে ভোগান্তি হয় মানুষের।

এসব বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, আজকে যারা দেরি করে এসেছেন তাদের সবাইকে শোকজ করা হবে। আর পোশাকের বিষয়ে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরো