রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনাম
কর্পোরেট সংবাদ

আইসিএসবি কর্তৃক ‘বোর্ড লিডারশিপ’ সিপিডি প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারীজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) কর্তৃক ‘বোর্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক একটি সিপিডি (কন্টিনিউইং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর মাল্টি-পারপাস হলে প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হয়।
 
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আইসিএসবি-এর প্রাক্তন কাউন্সিল সদস্য আখতার মতিন চৌধুরী এফসিএ, এফসিএস অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
 
আইসিএসবি-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটি (পিডিসি)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস সেশন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
আইসিএসবি-এর প্রেসিডেন্ট হোসেন সাদাত এফসিএস সকল অংশগ্রহণকারীকে স্বাগত জানান। তিনি কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অডিট এবং সেক্রেটারিয়াল অডিট প্রবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধান অতিথির নিকট বিডা-এর উপদেষ্টা পর্ষদে একজন চার্টার্ড সেক্রেটারী অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান, যা সুশাসন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সহায়তায় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।  
 
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক আখতার মতিন চৌধুরী এফসিএস পরিচালনা পর্ষদকে সুশাসন, কৌশল নির্ধারণ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ তার আইনগত দায়িত্বকে নিয়মতান্ত্রিক তদারকি, কাজের স্পষ্টতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে।
 
তিনি আরও বলেন, নৈতিক নেতৃত্ব, স্বাধীনতা এবং বৈচিত্র্য সুশাসনের অপরিহার্য উপাদান। একই সঙ্গে তিনি পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রনগত জটিলতা ও সুশাসনের ঘাটতি থেকে সৃষ্ট কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি উপসংহারে উল্লেখ করেন যে, নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা দূরদৃষ্টি ও কৌশলগত নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানোর মাধ্যমেই প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য মাত্রা অর্জন সম্ভব। 
 
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাহারুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শক্তিশালী সাংগঠনিক সংস্কৃতি, আস্থাভিত্তিক সুশাসন এবং স্বাধীন কিন্তু গঠনমূলক বোর্ড-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বোর্ড লিডারশিপের ভূমিকা ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। তিনি জবাবদিহিতা, বৈচিত্র্য, অভিযোজন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত-মুখী চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী এফসিএস পারিবারিক ব্যবসাকে স্বচ্ছতা, আস্থা এবং শক্তিশালী “টোন অ্যাট দ্য টপ”-এর মাধ্যমে পেশাদারভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিচালনা পর্ষদে বৈচিত্র্য, বাহ্যিক দক্ষতা, রিভার্স মেন্টরিং এবং কমপ্লায়েন্সের বাইরে কোম্পানি সেক্রেটারির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরেন। 
 
প্রধান অতিথি চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন চার্টার্ড সেক্রেটারীদেরকে ‘অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষা দল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নীতিনির্ধারকদের শুধুমাত্র স্থানীয় বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান; এবং একইসঙ্গে বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের আস্থার জায়গা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সুশাসনের অভাবে নৈতিক মানদণ্ডের অবক্ষয় ও সামাজিক আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অংশীজনদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুশাসনের ধারায় আনতে চার্টার্ড সেক্রেটারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
 
সেশন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস বিশিষ্ট অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কর্পোরেট সুশাসন জোরদারে নৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাঠামোগত ভূমিকা সুস্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষত এক্সিকিউটিভ ও নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালকদের দায়িত্বের অনাকাঙ্ক্ষিত সাংঘর্ষিক অবস্থার বিষয়টি বোর্ডের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন। তিনি শেয়ারহোল্ডার, বোর্ড এবং ব্যবস্থাপনার পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন এবং একজন কোম্পানি সেক্রেটারীকে সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নৈতিক মানদণ্ডের ঘাটতি, বোর্ডরুমে দক্ষতার সীমাবদ্ধতা এবং নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালকদের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মতো চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। এছাড়া, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নতুন কোম্পানি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। 
 
পরিশেষে উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক এবং সেশন চেয়ারম্যান অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
 
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর পরিচালক ড. মীর শরিফুল বাশার এফসিএস অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
অনুষ্ঠানের শেষে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য মিজ ইসরাত জাহান রিমি এফসিএস প্রধান অতিথি, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, আলোচকবৃন্দ, আইসিএসবি-এর সদস্যবৃন্দ এবং সকল অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
 

 

এই সম্পর্কিত আরো