বুধবার, ২০ মে ২০২৬
বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
ঈদের পর হামের টিকার দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা ময়মনসিংহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত চাহিদার চেয়ে বেশি পশু হাম ও উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা: - র‌্যাব আগের মতো থাকছে না, পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে হামের প্রাদুর্ভাব - চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল ১ জুলাই থেকেই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় - হাসপাতালে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম চালু হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী কঙ্গোতে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১ প্রতিদিন মাত্র ৬৮ টাকার সহজ কিস্তিতে নতুন অপো এ৬সি
advertisement
সারাদেশ

ময়মনসিংহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত চাহিদার চেয়ে বেশি পশু

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলায় ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদার তুলনায় এটি প্রায় ৪৪ হাজার ৮৮২টি বেশি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অতিরিক্ত এই পশু দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। এর বিপরীতে ১৩টি উপজেলায় মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৭টি, ছাগল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬৬টি, ভেড়া ৫ হাজার ৩৪৪টি এবং মহিষ ৮৮৬টি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু বাজারজাত করা হবে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

তবে সরবরাহ বেশি হলেও এ বছর পশুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন খামারিরা। তাদের অভিযোগ, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি খাতে ক্ষতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এতে কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলার খামারি সাদ্দাম করিব বলেন, বোরো ধানের মৌসুমে এবার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এতে কোরবানির সক্ষমতাও কমে গেছে।

চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামের খামারি কুদরত আলী বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে ঢাকার পাইকাররা আগেভাগে এসে গরু বুকিং দিত। এবার ঈদের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকলেও এখনো কোনো পাইকার আসেনি। পাইকার না এলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হবে, কিন্তু ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

দাপুনিয়া এলাকার খামারি জাহিদ বলেন, গরু পালনে এখন খাদ্য ও শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমরা লোকসানের আশঙ্কায় আছি।

একই এলাকার খামারি জুয়েল সিকদার বলেন, এ বছর বাজারে চাহিদার তুলনায় পশু বেশি। পাইকার না এলে বা দাম না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

এদিকে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু চোরাচালানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের দাবি, অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশি গরুর দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার নড়াইল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, গরু পালন করতে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাজারে ঢুকলে দেশি গরুর দাম অর্ধেকে নেমে আসতে পারে, এতে খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

ধোবাউড়ার খামারি আকমল বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে চোরাকারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কম দামে গরু এনে বাজারে বিক্রি করা হয়, এতে দেশি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এবারও একই শঙ্কা রয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গরু চোরাচালান রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় এ বছর পশুর সরবরাহ বেশি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে। আশা করছি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।

খামারি ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ঠিক থাকলে ন্যায্য দাম পাওয়া সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ