বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রাজেশ শর্মা ২০২৬ ফিফা ফুটবল - যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি ও দাদাগিরির’ বিস্ফোরক অভিযোগ ইরানের প্রেসিডেন্টের সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী নরসিংদীতে ভারী বর্ষণে ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু ময়মনসিংহে সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিমি বৃষ্টি, জলমগ্ন নগরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ১৪ জুলাই গ্রামীন ফোনের বোর্ড সভা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল মামলার শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার
advertisement
জাতীয়

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু :

যুগ্ম-সচিব সন্তানকে মোংলা বন্দর থেকে প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুরে এক বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম-সচিব) এ কে এম আনিসুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন।

এর আগে, গত রোববার (৩১ মে) মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে বৃদ্ধা নুরুজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুরো বাসায় ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে একাই থাকতেন। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরও মেয়ে টের পাননি এবং ওই কক্ষটিতেও দীর্ঘদিন কেউ প্রবেশ করেনি বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর সেকশন-৬ এর সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ৮ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি মূলত ওই বৃদ্ধার মেয়ের। তারা মা-মেয়ে দুজনেই ওই বাসায় থাকতেন এবং সেখানে কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না।

ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মা এবং অন্য কক্ষে মেয়ে থাকতেন। বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। তবে মায়ের ঘরটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত জঘন্য। পুরো কক্ষ ময়লা-আবর্জনা ও ছত্রাকে ভরা ছিল এবং পোকা-মাকড় জন্মেছিল, যা মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। বৃদ্ধা এক সপ্তাহ আগে মারা গেলেও মেয়ে কোনো খবর রাখেননি। একা বসবাসরত ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পুলিশ জানায়, মৃত বৃদ্ধার ৩ ছেলের একজন যুগ্ম-সচিব, একজন বুয়েট শিক্ষক ও আরেকজন কানাডায় বসবাস করছেন।

মৃত্যুর পর অভিযোগ ওঠে, সন্তানরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও বৃদ্ধা মায়ের যথাযথ দেখাশোনা করেননি। 

পরিবারের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একজন মায়ের এমন নিঃসঙ্গ ও মর্মান্তিক মৃত্যু মানবিক দায়বোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ