রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সূচকের পতনে লেনদেন শেষ বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী পানির নিচের গ্যাস পাইপে লিকেজ, নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে সরবরাহ বন্ধ সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডন বর্ষায় মানুষের পাশে বাংলালিংক - ১০ সিটি করপোরেশনে ১২ হাজারের বেশি রেইনকোট বিতরণ মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে ৩৪ হাজার ৭১৪ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের দিনাজপুরে যমুনা ব্যাংকের নোট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা
advertisement
আইন-আদালত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডন

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

রোববার (৯ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান। তারা তদন্ত করছেন।

সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হক। গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলার পর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে যেতে চেয়েছিলেন সৌদি আরবে ওমরাহ করার জন্য। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় ধরা পড়েন তিনি।

এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। খবর দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তারা এসে বিমানবন্দর থেকে ডনকে নিয়ে যায়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

ডন গ্রেফতারের পর সালমান শাহ হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি হবে কি না- জানতে চাইলে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে মামলাটি সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে। নিশ্চয় মামলার অগ্রগতি হবে।

জানা গেছে, গত বছর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের যুবরাজ খ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে তার নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হলেও সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যা বলে দাবি করে আসছে।  

পরবর্তীতে বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক গত বছর ২০ অক্টোবর রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।  

এজাহারে উল্লেখিত আসামিবৃন্দ  

নতুন এই হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। 

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন-

সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক

শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই  

লতিফা হক লুছি (সামিরার মা)

খলনায়ক আশরাফুল হক ডন

ডেবিট, জাভেদ ও ফারুক

মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি

আব্দুস ছাত্তার ও সাজু

রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। এর কিছু সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিমের ফোনে তারা জানতে পারেন সালমানের কিছু একটা হয়েছে।  

দ্রুত বাসায় ফিরে তারা দেখতে পান সালমান শয়নকক্ষে নিথর দেহ নিয়ে পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন, আর পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ জানান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা।  

প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান যে সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।  

সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সিএমএম আদালতে দরখাস্ত দাখিল করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকে সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর ও মা নীলা চৌধুরী এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।  

আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি সাপেক্ষে, এজাহারনামীয় ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ বহাল রেখেছেন। আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দিলে মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

 

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ