বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। ‘ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাণবন্ত সংলাপের মিশেলে তার দুঃসাহসিক ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্ম সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে’ বলে  তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কারসন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে ক্লাসিকস বা ধ্রুপদী সাহিত্যে ‘ওডি এত আমো এরগো সাম’ শীর্ষক তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। পেশাগত জীবনের পুরোটাজুড়ে কবিতা রচনার পাশাপাশি অনুবাদকর্ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

কারসনের সাহিত্যের মূল উপজীব্যই হলো শব্দের প্রতি ভাষাতাত্ত্বিকের তীব্র আকর্ষণ এবং নতুন অর্থের সন্ধানে কবির আকুলতার এক অপূর্ব মিলন। কার্সন নিজেও উল্লেখ করেছেন, শব্দের মূল উৎসই তার যাবতীয় সৃষ্টির প্রেরণা।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার অনুবাদগুলোকে মূল রচনার মতোই স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাফোর খণ্ডিতাংশের ব্যাখ্যানুবাদ ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), এবং সোফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ (২০০১) ও ‘অ্যান্টিগোনে’ (২০১৫) এবং ইউরিপিডিসের ‘বাকাই’ (২০১৫)-এর মতো ট্র্যাজেডিগুলোর রূপান্তর।

নব্বইয়ের দশকে কারসন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এগুলোর মধ্যে ‘গ্লাস, আয়রনি, অ্যান্ড গড’ (১৯৯৫) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত ‘দ্য গ্লাস এসে’ অন্যতম।

একই দশকে প্রকাশিত হয় কারসনের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত কাব্য-উপন্যাস ‘অটবায়োগ্রাফি অব রেড: আ নভেল ইন ভার্স’ (১৯৯৮)। ধ্রুপদী সাহিত্য ঐতিহ্যকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে রূপদানের ক্ষেত্রে তার যে অসামান্য দক্ষতা, এটি তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের গ্রিক কবি স্তেসিকোরোসের ডানাযুক্ত লাল রাক্ষস ‘জেরিয়ন’-কে কেন্দ্র করে লেখা কবিতার খণ্ডাংশগুলোকে ভিত্তি করে আধুনিক ভাষা ও ভাবাবেগের নিপুণ প্রয়োগে তিনি এটি রচনা করেছেন।

লেখালেখির জীবনজুড়েই অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে রচনার নিত্যনতুন দুয়ার উন্মোচন করেছেন কারসন। এক্ষেত্রে ‘সাহিত্যিক রূপরেখা’ বা স্কেচিং তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’ গ্রন্থটি এর অন্যতম সাক্ষী। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখা ২২টি ছোট পুস্তিকার সমন্বয়ে গঠিত বইটি পাঠক নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনও ক্রমে পড়তে পারেন।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নরমা’ গ্রন্থটি বিভিন্ন পাঠ্যরীতির একটি বৈচিত্র্যময় সংমিশ্রণ। এতে বিভিন্ন শিল্প ও একাডেমিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন কারসন। দৃশ্যশিল্পী, নৃত্যপরিচালক, অপেরা ও নাট্য পরিচালকদের সঙ্গে তার যৌথ সৃষ্টিশীল কাজগুলো প্রমাণ করে, প্রথাগত সাহিত্যিক প্রত্যাশা ও নিয়মনীতিকে কতটা স্বাধীন ও মুক্তভাবে দেখেছেন তিনি। আর এ কারণেই ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ এতটা অসামান্য প্রভাব ও গুরুত্ব বিস্তার করে চলেছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক ও চিত্রনাট্যকার লাসলো ক্রাসনাহরকাই। আর কারসনের আগে প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে ২০১৩ সালে সাহিত্য নোবেল অর্জন করেছিলেন ছোটগল্পকার অ্যালিস মানরো।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ