সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত নানা নৃশংসতার দায়ে তার বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হলো। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দামেস্কের একটি আদালতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারক ফাখর আল-দীন আল-আরিয়ান রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো।’
আদালত আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, একাধিক ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হত্যার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, নির্যাতন, নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু এবং একাধিকবার বেআইনিভাবে স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। এসব অপরাধকে আদালত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পরিবারসহ সিরিয়া ছেড়ে মস্কোয় পালিয়ে যান বাশার আল-আসাদ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে তার বিরুদ্ধে দেওয়া এটিই প্রথম কোনো আদালতের রায়।
রায়ে আসাদ সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তা আতিফ নাজিবকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার বিদ্রোহের সূতিকাগার দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদের চাচাতো ভাই নাজিবকে গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁকে পরিকল্পিত হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।