মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ইউএনওর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলায় রিভিশন সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিতে নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন নিয়ে আসছে রিয়েলমি অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই দ.কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ - দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি: ইসি সাধারণ মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: বিআরটিএ আওয়ামী লীগের নাশকতার মুরোদ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসিবি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ মঙ্গলবার এনআরবিসি ব্যাংকে ‘ট্রিপল ওয়ান ক্যাম্পেইন ২০২৬’ শুরু
advertisement
আন্তর্জাতিক

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি:

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে ফোবানার গভীর শোক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)।

সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল এবং নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ফ্লোরিডায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবার নয়, উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গভীর শোক ও উদ্বেগের কারণ। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ফোবানার নেতারা আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন করবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য, ফ্লোরিডার টাম্পা এলাকায় নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) টাম্পা বে এলাকার একটি সেতুর কাছে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশ ২৭ বছর বয়সী নাহিদা বৃষ্টির। বৃষ্টি এবং তার বন্ধু, সহপাঠী জামিল লিমন (২৭) গত ১৬ এপ্রিল টাম্পায় শেষবার দেখা গিয়েছিল।

এর আগে ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুতে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে তাদের সহবাসী হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহ (২৬) গ্রেপ্তার হন এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়।

দুই দিন পর ঘটনাস্থলের কাছেই আরেকটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখা যায়, যেটিও গিঁট দিয়ে বাঁধা ছিল লিমনের মরদেহ যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল তার মতোই। এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া দুই কায়াক আরোহী ব্যাগটি খুঁজে পান। তাদের একজনের মাছ ধরার সুতা ব্যাগে আটকে গেলে তিনি কাছে গিয়ে দেখেন ব্যাগটি খোলা এবং ভেতরে মানবদেহের মতো কিছু রয়েছে। তাদের ভাষায়, ব্যাগটি থেকে 'বর্ণনাতীত' দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

ইউনিভার্সিটির মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি ও লিমন দুজনই মুসলিম ছিলেন। বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ক্যাম্পাসেই থাকতেন।

তদন্তকারীরা জানান,বৃষ্টির মরদেহটি 'উন্নত পর্যায়ের পচন'-এ ছিল। নজরদারি ভিডিওতে তাকে শেষবার যে পোশাকে দেখা গিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া দেহে একই ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।

গত শুক্রবার তদন্তকারীরা বাংলাদেশে বৃষ্টির পরিবারকে জানান, তারা ধারণা করছেন বৃষ্টির নিহত হয়েছেন। বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, তাদের অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্ত পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

তদন্তে আরও জানা যায়, আবুঘারবিয়াহ শেষ দিন লিমন ও বৃষ্টিকে টাম্পা থেকে ক্লিয়ারওয়াটারে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি তাদের গাড়িতে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও, মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা দেখানোর পর তা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ওই রাতেই তিনি ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইসোল ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন। পরদিন তার অবস্থান তথ্য অনুযায়ী তিনি হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে গিয়ে কিছু সময় থেমেছিলেন।

এছাড়া তার রুমমেট জানান, তিনি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাম্পস্টারে কার্ডবোর্ড বক্স ফেলতে দেখেছেন। রান্নাঘরের একটি ম্যাটে পাওয়া ডিএনএ বৃষ্টির সঙ্গে মিলে গেছে এবং ডাম্পস্টার থেকে লিমনের ছাত্র পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও বলেন, ১৩ এপ্রিল আবুঘারবিয়াহ চ্যাটজিপিটি -কে প্রশ্ন করেছিলেন: 'একজন মানুষকে যদি কালো গারবেজ ব্যাগে রেখে ডাম্পস্টারে ফেলা হয়, তাহলে কী হয়?

২৪ এপ্রিল টাম্পার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখেছিলেন, ফলে বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল ইউনিট  (সোয়াট) মোতায়েন করা হয়। পরে তাকে একটি নীল তোয়ালে পরা অবস্থায় হাত উঁচু করে বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়।

তার বিরুদ্ধে মৃতদেহ গোপন করা বা সরানো, কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুর তথ্য না জানানো, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তিনি টাম্পার ফালকেনবার্গ রোড কারাগারে আটক রয়েছেন বলে শেরিফ অফিসের রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ