চলচ্চিত্র নির্মাণের নাম করে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের দায়ের করা মামলায় ডিএমপি ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গত ১৮ এপ্রিল এ আদেশ দেওয়া হলেও বিষয়টি শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামনে আসে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছেন তিনি।
দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পূজা চেরি লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়-এর গ্রেফতার এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে, যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে আমি অসংখ্য ফোন কল এবং বার্তা পাচ্ছি। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’
অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।’
আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সাথে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউজ বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথেও যুক্ত নই।’
ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি উল্লেখ করে পূজা চেরি লেখেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আমি আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।’
সবশেষ পূজা চেরি লেখেন, ‘এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।’
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যবসার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিপুল অঙ্কের টাকা নেন দেবু প্রসাদ। ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার পশ্চিম মাটিকাটার একটি বাসায় গিয়ে প্রথমে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধার হিসেবে নেন তিনি। পরে একই প্রকল্পের কথা বলে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মে তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে আরও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেলে তার অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি। বরং টাকা চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করেন এবং একপর্যায়ে হুমকি দিতে শুরু করেন। তার অভিযোগ, সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
পূজা চেরির পরিচিতি ও পূর্ব সম্পর্কের কারণেই এই অর্থ লেনদেন হয়েছিল বলে জানান অভিযোগকারী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি আমার অভিযোগ থানায় জানিয়েছি। এখন বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।”