সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ক্রয়ের পর তা দলিল লেখকের নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তাদের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে এই প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরুল ইসলাম, বয়স ৭৭, তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, তার ছেলে ফরহাদ আলী বিদেশে কর্মরত। ছেলের কষ্টার্জিত অর্থে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় দেড় বিঘা কৃষিজমি কেনা হয়। জমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। পরে জানা যায়, জমিটি ক্রেতার নামে না হয়ে দলিল লেখকের নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, যার দলিল নম্বর ৭৮২/২১।
নুরুল ইসলাম বলেন, তারা স্বাক্ষর করতে না জানার কারণে দলিল লেখকের ওপর নির্ভর করেছিলেন। তাদের দাবি, এই সুযোগে প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে। জমিটি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই এবং এটি হারালে পরিবারটি চরম বিপদের মুখে পড়বে।
ফরহাদ আলী জানান, দলিলের জাবেদা নকল সংগ্রহ করতে গেলে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে নকল সংগ্রহ করে বিষয়টি জানতে পারেন। সম্প্রতি ভূমি অফিসে খাজনা-খারিজ করতে গেলে জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও জমির ভোগদখলে এখনো তারাই রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির বিক্রেতা বাবলু, কালাম, শামীমা ও সুমি খাতুন উক্ত জমি ফরহাদ আলীর কাছেই বিক্রি করেছেন এবং এ বিষয়ে তারা লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, তিনি রেজিস্ট্রেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তার মতে, সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এ অনিয়ম করা হয়েছে।
গ্রামপ্রধান মো. হাফিজ উদ্দীন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ সময়ক্ষেপণ করছে। দলিল অনুযায়ী মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় গ্রাম্যভাবে সমাধান জটিল হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জমিটি তার নিজের এবং ফরহাদ আলীর কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে ফরহাদ আলী সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই অভিযোগ জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন, তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান এবং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সিফাত মাহমুদের কাছেও দাখিল করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সিফাত মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের হলেও অভিযোগকারীকে বিধি অনুযায়ী আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।