২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে।
পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করবেন যেভাবে-
*ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ([https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd](https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নির্ধারিত স্থানে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে। এরপর বোর্ডের ড্রপডাউন তালিকা থেকে বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
*এরপর শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
*পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
*প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা করে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ, ডিবিবিএল রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ সংশ্লিষ্ট পোর্টালের ‘পে’ বাটনে ক্লিক করে দেখা যাবে।
*ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি প্রদান করে আবেদন জমা দেওয়ার পর আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই পদ্ধতিতে আবেদন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
*ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো (যেগুলোর জন্য এখনো ফি প্রদান করা হয়নি) প্রত্যাহার করা যাবে। নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
অনলাইন ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর দেশজুড়ে মোট জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
এ বছর ঢাকা বোর্ডে পাশের হার ৬১.৮৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৪৪.৮৪ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫.৯৮ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.০৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.০৭ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫.০৬ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০.৯০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪.৯২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৪৪ শতাংশ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ৬১. ০৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯. ৪৩ শতাংশ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই আকস্মিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করবে।
গত ২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে গ্রহণ করা হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন অংশ নেন।
এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।