২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে করদাতারা সারা বছরই আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে মিলবে বিশেষ কর ছাড়, আর দেরিতে দিলে গুনতে হবে জরিমানা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন,
প্রথম প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর): এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম), সেই পরিমাণ কর ছাড় বা রেয়াত পাবেন।
দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর–ডিসেম্বর): এটি সাধারণ সময়। এই প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত ছাড়ও মিলবে না, আবার কোনো জরিমানাও থাকবে না। করদাতারা কেবল তাদের নির্ধারিত কর পরিশোধ করবেন।
তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি–মার্চ): এই সময়ে রিটার্ন জমা দিলে বিলম্ব ফি বা জরিমানা গুনতে হবে। পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
চতুর্থ প্রান্তিক (এপ্রিল–জুন): অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়বে। এক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা (যেটি বেশি), সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।
করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এবারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অংকের দিক থেকে যা দেশের ইতিহাসের রেকর্ড।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম বাজেট। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র মহাসড়কে এগিয়ে নেওয়া।
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।