সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আপন বড় বোনকে মারধর করে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত মনোয়ারা বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ১১টার দিকে। অভিযোগ রয়েছে, সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন স্বজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনোয়ারা বেগমের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে গরু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে তার মাথায় কোপ এবং লোহার রড দিয়ে মারধরের ফলে ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।
এই ঘটনায় ২০ এপ্রিল মনোয়ারার স্বামী আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে বেলকুচি আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন—রান্ধুনীবাড়ী আলিমুদ্দিন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম, তার ভাই সাইফুল ইসলাম, ভাতিজা শরিফুল ইসলাম (সোহান), ফজিয়া খাতুন, সাহানা খাতুন এবং সুমি খাতুন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চক মকিমপুর গ্রামের পৈত্রিক ভিটায় মনোয়ারা বেগম ৩০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ভাই সাইদুল গং দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এমনকি ১৯৮২ সালের একটি জাল দলিল তৈরি করে দাবি করা হয়, তখনই বোনেরা তাদের অংশ লিখে দিয়েছে—যেখানে মনোয়ারা তখন ছিলেন মাত্র ৭ বছর বয়সী নাবালিকা।
এই জাল দলিলের ব্যাপারে করা মামলায় তদন্ত শেষে সিআইডি প্রমাণ করে দলিলটি জাল। এছাড়া ২০২৩ সালের এক হামলার ঘটনায়ও মামলা হয়েছিল, যার তদন্ত শেষে পিবিআই আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বারেক বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। পিটিশন থানায় এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে মাত্র। আমি আমার সব বোনকে জমি দিয়েছি, শুধু এই বোন মামলা করার কারণে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”


