বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
শেয়ারবাজার

আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুমোদন

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই নির্দিষ্ট কোম্পানির সিকিউরিটিজ স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রেখে ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে কমিশনের ১০২৭তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন এই বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ারের ১০ থেকে ২০ শতাংশের মাধ্যমে কোনো কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

তালিকাভুক্তির যোগ্য প্রতিষ্ঠান

*সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি।

পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।

*বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি।

*কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন বিটিআরসি-অনুমোদিত টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতের সেবা বা অবকাঠামো প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

*অন্তত তিন বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি।

*কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদসম্পন্ন কোম্পানি।

*স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টির নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যোগ্য প্রতিষ্ঠান।

‘জেড’ ক্যাটাগরি ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত নির্দেশনা
সভায় বিএসইসির ২০২৪ সালের ২০ মে জারিকৃত নির্দেশিকা (Directive No. BSEC/CMRRCD/2009-193/77) সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির কোনো স্পনসর বা পরিচালকের শেয়ার ঋণখেলাপির কারণে বাজেয়াপ্ত হলে কিংবা শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এখন থেকে কমিশনের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো প্রচলিত লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বৈত কর পরিহার সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই তা পাঠাতে হবে। স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ শেষে প্রাথমিক পরিপালন প্রতিবেদন এবং বিদেশি লভ্যাংশ প্রেরণের ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত পরিপালন প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করতে হবে।

ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর রোডম্যাপ
সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেগুলেটরি উদ্যোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্লিয়ারিং-সেটেলমেন্ট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক ডেরিভেটিভস পণ্য হিসেবে ইনডেক্স ফিউচার দিয়ে এর লেনদেন শুরু হবে। ডিএসইর এই কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে কমিশন এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ