প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। এদিন বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে ৯১১ জন নারীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় যে দুর্নীতি হয়েছে তার মাধ্যমে দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আমরা এই দুর্নীতিকে রোধ করতে চাই। এটা জনগণের টাকা, জনগণের অর্থ পাচার হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করব, ইনশাআল্লাহ।
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মায়েরা এগিয়ে না গেলে দেশ আগাবে না। তাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও স্বাবলম্বী হতে হবে।
তিনি জানান, এই মাসের মধ্যে আরও ২৩টি উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ৫ বছরে, ৪ কোটি পরিবারের মধ্যে ম্যাক্সিমাম পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
হামের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময়ে বাচ্চাদের টিকা বিদেশ থেকে আনা হয়নি ৫ আগস্টের পর যে সরকার আসলো তারাও টিকা আনেনি। কিছু মানুষের গাফিলতির কারণে অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনার মধ্যে অধিকাংশ পরিকল্পনা গ্রামের মানুষকে ঘিরে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামের বাস করে। এই মানুষগুলোকে ঘিরে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম, কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলাম, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের কথা বলেছিলাম। ইতোমধ্যে কৃষকদের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। সারাদেশের ১২ লক্ষ কৃষক এতে সুবিধা পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান এবং উপস্থিত সমর্থকরাও এতে অংশ নেন।