পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন এবং তার শপথ গ্রহণে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, “প্রথম কথা হলো আইনে যেটা আছে সেটা আছে, দ্বিতীয় হলো এই সরকার যেটা করেছেন সংবিধান মেনেই করেছেন। এখানে ব্যত্যয়ের কোন কিছু ঘটেনি। সুতরাং আমরা যা করেছি সাংবিধানিকভাবেই করেছি। এটাকে বলে ডিবি ক্লজ। যখন শপথ নেয়া হয়েছে আমরা সাংবিধানিকভাবেই দিয়েছি।”
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। (তার শপথ গ্রহণে) আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বাংলাদেশের সরকার যা করছে, সংবিধান মেনেই করছে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, গুম ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সরকার গঠনের পর পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মিথ্যা মামলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো ভুক্তভোগী নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ সূচক কোনো উত্তর দেননি।
আজ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা মনে করি, প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। ১৯৯৪ সালে খালেদা জিয়ার সময় লিগ্যাল এইড কনসেপ্ট চালু করা হয়। একটা মানুষ যতই অপরাধ করুনা না কেন আইনগত অধিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দেশে গুমের অধিকার, ক্রস ফায়ারের ঘটনা বন্ধ করা হয়েছে। বাগেরহাটের গুমের একটি অভিযোগ এসেছে এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাগরিকত্ব বিষয়ে পরোক্ষ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি... কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’ প্রতিমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরই মূলত এ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।