শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
লায়ন্স ক্লাব অফ ঢাকা প্রটেস্টিং ভয়েজের উদ্যোগে বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মেঘনা ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি ব্যস্ত কর্মজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনবে আল্ট্রা ওয়াইড ওডিসি মনিটর পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে দুই তলা থেকে লাফিয়ে পালাল আসামি দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী - মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই উন্মুক্ত হবে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী - তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর আইএফআইসি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস !
advertisement
জাতীয়

চালু হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’: অনলাইনে যেভাবে মিলবে টিকিট

৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন করার পরে জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জাদুঘরটি থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।  

জানা গেছে, দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরে প্রবেশের সময়কে কয়েকটি স্লটে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ দর্শনার্থী জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইন বুকিং ব্যবস্থার পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইন বুকিংয়ের জন্য  ‘জুলাই ৩৬’ এই ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে পছন্দের সময় নির্বাচন করতে হবে। অনলাইন টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় বেছে নিতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন কিংবা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে দর্শনার্থীরা জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে পারবেন।

জাদুঘরের মূল ভবনে যেতে প্রতিদিন তিনটি সময়সীমা রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে মর্নিং স্লটে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা, মিড ডে স্লটে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং ইভিনিং স্লটে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যাবে। টিকিটের গায়ে উল্লিখিত সময়ের মধ্যেই কেবল মূল ভবনে প্রবেশ করা যাবে। 

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ যা যা দেখতে পারবেন

জাদুঘরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে লাল ইটের পথের দুই পাশে বিভিন্ন ফলজ গাছ। পথের পাশেই রয়েছে ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী, যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ‘জুলাই স্মৃতিসৌধ’। এখানে সাদা মার্বেল পাথরে বৃত্তাকারে নির্মিত স্মৃতিফলকে নিহতদের নাম উৎকীর্ণ করা হয়েছে। ভেতরের অংশ প্রতীকী কবরস্থানের আদলে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি খোলা প্রাঙ্গণে রয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতীকী ভাস্কর্য, যার মধ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির দৃশ্য, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী, সাইকেলে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর প্রতিরূপ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুমের অভিযোগ এবং নারী আন্দোলনকারীদের স্মরণে নির্মিত শিল্পকর্ম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও।

জাদুঘরের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে আলোচিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে একটি প্রতীকী কক্ষ, যেখানে গুমের অভিযোগে ব্যবহৃত বন্দিশালার পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে।

দোতলা ভবনের নিচতলায় রয়েছে বিভিন্ন নথি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, প্রামাণ্য উপকরণ এবং আন্দোলনসংক্রান্ত প্রদর্শনী। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককক্ষও সংরক্ষণ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় কক্ষটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা অক্ষত রাখতে পুরো মেঝে বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সেটি দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় তলায় পুরো আয়োজনই জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে ঘিরে। এখানে শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, বই, খাতা, খেলাধুলার সামগ্রীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা পোশাকও।

এছাড়া দিনভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপঞ্জি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, শিল্পকর্ম এবং চারপাশজুড়ে বিশাল ডিজিটাল পর্দায় জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে মিছিল, নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, সূচিকর্ম, পোস্টার ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ