বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী - মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই উন্মুক্ত হবে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী - তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর আইএফআইসি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস ! দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির হৃদয়ের রেকর্ড ট্রিপল-সেঞ্চুরি - দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করল বাংলাদেশ ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে আইডিবির সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
advertisement
নির্বাচিত কলাম

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস !

অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নের প্রধানতম চালিকাশক্তি হচ্ছে জ্বালানি। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিল্পায়ন, বিদ্যুতায়ন এবং দৈনন্দিন জীবনের এক বিরাট অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপরই নির্ভর করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ এক অভূতপূর্ব ও তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গৃহের চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরিবহন খাত পর্যন্ত এই সঙ্কটের মুখোমুখি। ফলে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরী হয়েছে সমাজে। যার ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেছে। সার্বিক অর্থনীতিকেও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি সমাধান হতে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে ইতিমধ্যে সরকারের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে চলমান তীব্র সংকট বা লোডশেডিং স্বল্প মেয়াদে কিছুটা সহনীয় করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

গ্যাস সংকট-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন হ্রাস পায়, রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সে কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটিকে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করে সেভাবেই দেখতে হবে। সেজন্য এই বিভাগটির মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা—দুটোই অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন হলেও তাদের রেখে যাওয়া দুষ্টক্ষত বা অপছায়া দেশ ও জাতির পিছন ছাড়ছে না। সেই অপছায়া অবশ্যই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশের বর্তমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকান্ড, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি মনে করা হলেও বিশেষজ্ঞরা কিন্তু ভিন্ন কথাও বলছেন। তাদের অনেকেরই মতে, দেশে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কট কোনো আকস্মিক কারিগরি বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং এটি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং সরকার সংশ্লিষ্টদের অন্যায্য রাজনৈতিক প্রভাবের প্রত্যক্ষ পরিণতি।

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণ হিসাবে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হলেও এর নেপথ্যে যে ষড়যন্ত্র নাই তা অভিজ্ঞ মহল হালকাভাবে দেখতে চান না। তারা সাবোটাসকে দায়ী করছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেন এত সঙ্কট হয়নি সে প্রশ্নও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এর পেছনে ‘অন্য কিছু’ আছে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। সরকারকেও এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। নানা অনুসন্ধানে আভাস পাওয়া যায় যে, পর্দার আড়ালে গভীর রাজনৈতিক ‘স্যাবোটাজ’-এর তথ্য। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে আবার মাঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে চায়। আর এজন্যই টার্গেট করা হয়েছে দেশের জ্বালানি খাতকে। নানা মহল মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে স্বল্পতার বাইরেও বিদ্যুৎসংকটের পেছনে রয়েছে পতিত ফ্যাসীবাদী শক্তিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের স্যাবোটাজ। তেল নিজেদের সংরক্ষণে রেখেও সরকারকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাদের সঙ্গে স্যাবোটাজে ইন্ধন দিচ্ছেন বিগত সরকারের আমলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও নেতারা। তাঁদের পরামর্শে তৎকালিন সরকারের সমর্থক সাবেক ও বর্তমান কতিপয় আমলা, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করেপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কর্মকর্তা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ স্যাবোটাজের নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।

চরশান পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট এখন শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই কমিয়ে দিচ্ছে না, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গত এক দশকে দেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি, বিশেষ করে এলএনজি ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে সামান্য অস্থিরতাও সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ৫৪ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এই বিপুল ব্যয় একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক খরচও বৃদ্ধি করছে। যে জ্বালানির সরবরাহ মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশতো বটেই, কোনো দেশের জন্যই নিরাপদ নয়।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকারকে অবশ্যই বাংলাদেশের জ্বালানি নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে। তবে সমাধান শুধু আরও বেশি জ্বালানি আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বরং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। আর এই রূপান্তর হতে হবে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সীমিত ভূমি, উচ্চ জনঘনত্ব এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশের জন্য এমন একটি জ্বালানি কৌশল প্রয়োজন, যা একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতাকে আরও বেশী স্পষ্ট করে তুলছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস ও স্পট বাজার থেকে বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারের আর্থিক চাপ—সবই বেড়েছে।

বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরী প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, সরবরাহকারী দেশ বৈচিত্র্যকরণ এবং কৌশলগত মজুত বাড়ানো প্রয়োজন। একক কোনো দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি বাড়ানো এবং স্পট মার্কেটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে অপচয় বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। শিল্পকারখানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করারও প্রয়োজন রয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু সংকটের সময় নয়, নিয়মিত জাতীয় নীতির অংশ হওয়া উচিত।

বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে পতিত সরকারের আমলের বকেয়া দাবির নেপথ্যেও রয়েছে সিন্ডিকেট। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সুযোগ পাওয়া এসব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নামে-বেনামে তৎকালীন সরকারের দোসরদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বা নিয়ন্ত্রন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কিছু কোম্পানির মালিক ক্যাপাসিটি চার্জ শোধ এবং ‘কমিশনের’ ভাগ পেতে সরকারের সাথে নানা রকমের দেনদরবারও শুরু করেছেন। এ সিন্ডিকেটটি সচিবালয়ে প্রশাসনের ভিতরের পতিত সরকারের লেজুড়বৃত্তি করা একটি অংশ এবং বিরোধী মতাদর্শের আরেকটি গোষ্ঠীর একটি জোট নিয়ে গঠিত হয়েছে বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করে। তারা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এদের চক্রান্তেই বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়িয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ গড়ে তোলারও ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলমান সঙ্কটময় মুহুর্তে, দেশে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। এসব এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে পতিত সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিপুর অনুসারীরাই নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে আছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোডশেডিং কারিগরিভাবে দেখানোর অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যেখানে বিদ্যুতের এক ঘণ্টা লোডশেডিং দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতো, সেখানে পাঁচ থেকে সাত/আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে ইচ্ছা করেই। লোডশেডিংয়ের এ অবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। লোডশেডিং এখন আর কেবল জনদুর্ভোগের বিষয় নয়; এটি দেশের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আঘাত হানছে। সাময়িক সমাধান করে এই সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই বেহাল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলা খুবই দুরুহ। এই সহজ সত্যটি আমাদের নীতিনির্ধারকরা যত দ্রুত মেনে নিবেন, দেশের অর্থনীতির জন্য ততই বেশী মঙ্গল হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি সঙ্কট চলছে নিঃসন্দেহে তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি একই সাথে একটি বড় সুযোগ। সঙ্কট আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে শুধু আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর ভর করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহের বৈচিত্র্য, জ্বালানি সাশ্রয়, আধুনিক সঞ্চালন অবকাঠামো, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং সর্বোপরি সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ—এই সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা। আজকের সঠিক সিদ্ধান্তই আগামী দিনের বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। অন্যথায় অনেক বড় বিপর্যয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

সার্বিক পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষন করে দেশে লাগামহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটের দায় শুধুমাত্র সরকারের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। কারণ, এর পেছনে রয়েছে পতিতদের সুগভীর ষড়যন্ত্র। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতিকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সরকার, বিরোধী দলসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও গোষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পতিতদের রেখে পাওয়া দুষ্টচক্রকে মোকাবেলা করতে হবে, চিহ্নিত করতে হবে, প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। অন্যথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কোনভাবেই সম্ভব নাও হতে পারে। আরো বেশী বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে রাষ্ট্র ও সরকারকে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলা’ নয়; বরং এমন একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী, বহুমুখী ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করবে। বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে কার্যকর দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। তেমনি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি স্পষ্ট পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এর ফলে জনগণের মধ্যে প্রস্তুতি ও স্বস্তি থাকবে।

(লেখক : এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক )

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ