শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
সালমান শাহ স্মরণে তিন দিনব্যাপী উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী রফতানি বহুমুখীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্কিমে এসবিএসি ব্যাংকের অংশগ্রহণ ১০ দিন পর নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার জাতিসংঘে নতুন বাংলাদেশের বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে পাচারকালে ৫৯৫ বস্তা সিমেন্টসহ ১২ পাচারকারী আটক গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণে নূর মোহাম্মদ শেখেরকে বিজিবির শ্রদ্ধা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখার আহবান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে আদালত থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
advertisement
জাতীয়

"পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না দিলে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও জেল"

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা তা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বাংলাদেশে। ২০১৩ সালে প্রণীত ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের বিধিমালার আলোকে প্রবীণদের এই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

আইনে ‘পিতা-মাতা’ ও ‘ভরণ-পোষণ’-এর সংজ্ঞা
‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘ভরণ-পোষণ’ বলতে মূলত পাঁচটি মৌলিক ও মানবিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

*খাওয়া-দাওয়া ও বস্ত্রের জোগান।

*প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যা।

*নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা।

*সন্তানদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সঙ্গ ও সময় প্রদান।

আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ

আইনের ৩ ধারা: সন্তানের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব

প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এই দায়িত্ব বণ্টন করে নেবেন।

পিতা-মাতাকে একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনোভাবেই বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে, সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে একটি যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত তাদের প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারা: দাদা-দাদী ও নানা-নানীর অধিকার
পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সরাসরি নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এই দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে।

অপরাধ ও শাস্তির বিধান (৫ ধারা)
আইনের ধারা ৫(১): কোনো সন্তান ৩ বা ৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

ধারা ৫(২) (সহায়তাকারীর দণ্ড): কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তবে তাকেও অপরাধের সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এই আইনটিকে বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।

আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, "আইনের ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে মূলত তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এছাড়া ৩ ধারায় বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।"

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন আরও জানান, আপোষ-মীমাংসার সুযোগ (৮ ধারা): আইনের ৮ ধারায় আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আমাদের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০২৩ সালের নতুন বিধিমালা: ২০২৩ সালের বিধিমালায় ‘ভরণ-পোষণ তহবিল’ ও ‘পরিচর্যাকেন্দ্র’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

আইনজীবী খালিদ হোসাইন মনে করেন, এই আইনটি শুধু সন্তানদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। আইনটি সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা সমাজে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা পাবেন।

 

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ