শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
লায়ন্স ক্লাব অফ ঢাকা প্রটেস্টিং ভয়েজের উদ্যোগে বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মেঘনা ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি ব্যস্ত কর্মজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনবে আল্ট্রা ওয়াইড ওডিসি মনিটর পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে দুই তলা থেকে লাফিয়ে পালাল আসামি দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী - মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই উন্মুক্ত হবে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী - তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর আইএফআইসি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস !
advertisement
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ভাবিকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি শহিদুলের মৃত্যুদণ্ড চায় ফ্লোরিডা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর একাধিকবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের অভিযোগ থাকা এক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায় তার ভাবিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় প্রসিকিউটররা মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন।

ফ্লোরিডার লেক কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি বুধবার ৪৪ বছর বয়সী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ গঠন করে। ২০২৫ সালের ২ মে ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামকে হত্যার ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে স্টেট অ্যাটর্নি বিল গ্ল্যাডসন শুক্রবার জানান।

প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিবাসন ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করলে এই হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হতো। গ্ল্যাডসন বলেন, 'এই অপরাধ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য ছিল।' তিনি শহিদুল ইসলামের দীর্ঘ অভিবাসন ইতিহাস তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, মনিকার স্বামী রাশেদুল ইসলাম এবং তার ভাই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মনিকার ওপর পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছিল। মনিকা সর্বশেষ তার মেয়ের কর্মস্থল একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে দেখা গিয়েছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে শহিদুল ইসলামের গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। সকাল প্রায় ৭টার দিকে মাউন্ট ডোরার বাইরে একটি সড়কের পাশে এক পথচারী তার মরদেহ দেখতে পান। তার মাথায় গুলির আঘাত ছিল। 

তদন্তকারীরা জানান, হত্যার দিন সকালে শহিদুল ইসলামের ফোন রেকর্ড ও অনলাইন কার্যক্রমে হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত একাধিক 'সন্দেহজনক' অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীর পাশের ভাঙা জানালা, দরজায় আটকে থাকা একটি বুলেট এবং গাড়ির ভেতরে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত মনিকার বলে শনাক্ত হয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর শহিদুল ইসলাম আরেকটি গাড়ি ভাড়া করে নিউ ইয়র্ক সিটিতে পালিয়ে যান। গ্ল্যাডসনের ভাষ্য অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে গেছেন।

আদালত ও অভিবাসন নথির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শহিদুল ইসলামকে আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশ করেন, অভিবাসন অপরাধে ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করেন এবং পরবর্তীতে নজরদারির শর্তে মুক্তি পান।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি প্রবেশন কর্মকর্তার কাছে হাজিরা দেননি এবং বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান।

ফ্লোরিডার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইস ইনগোগ্লিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এমন অর্থহীন ও ভয়াবহ সহিংসতার যন্ত্রণা কোনো পরিবারেরই সহ্য করা উচিত নয়। শহিদুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ার পর অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেন, এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেন এবং পরে একটি ‘স্যাংচুয়ারি সিটিতে’ পালিয়ে যান।'

কর্তৃপক্ষ জানায়, যৌথ আইনশৃঙ্খলা অভিযানে শেষ পর্যন্ত তাকে নিউ ইয়র্কে শনাক্ত করা হয়। পরে ফেডারেল অভিবাসন মামলায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং হত্যার মামলার মুখোমুখি করতে তাকে লেক কাউন্টিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

ইনগোগ্লিয়া বলেন, ফ্লোরিডা অপরাধ, স্যাংচুয়ারি সিটি এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং আইন মেনে চলা পরিবারগুলোর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কখনো ক্ষমা চাইবে না।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ