সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
স্বাস্থ্য-লাইফস্টাইল

শিশুদের মধ্যে হাম কীভাবে ছড়ায়:

লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও ঝুঁকির কারণ

শিশুর হঠাৎ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া আর মুখে ছোট ছোট লাল দাগ অনেক সময়ই আমরা এগুলোকে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এসবই হতে পারে হামের লক্ষণ, যা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বর্তমানে দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে এই সংক্রমণ।
 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় হামের প্রকোপ বেশি। তাই অভিভাবকদের এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি।
 
শিশুদের মধ্যে হাম কীভাবে ছড়ায়
 
হাম মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে সেই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে—
*সংক্রমিত কারও কাছাকাছি থাকলে
*কাশি-হাঁচির ড্রপলেটের মাধ্যমে
দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করে পরে মুখ, নাক বা চোখে হাত দিলে
*বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
 
লক্ষণ:  হামের লক্ষণ ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়। সাধারণত সংক্রমণের ৭–১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমদিকে শিশুর জ্বর,নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং কাশি দেখা দেয়। কয়েকদিন পর আরও কিছু সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: 
*মুখ ও ঘাড়ে ছোট লাল দাগ
*ধীরে ধীরে পুরো শরীরে র‍্যাশ ছড়িয়ে যায়
*এই র‍্যাশ অনেক সময় চুলকানিযুক্ত হতে পারে এবং কাশি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
*মুখ ও ঘাড়ে ছোট লাল দাগ আর র‍্যাশ ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত 
*মুখ ও ঘাড়ে ছোট লাল দাগ আর র‍্যাশ ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
 
কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হাম:  
 
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৭–১০ দিনের মধ্যে হাম ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে—
 
*কানের সংক্রমণ
*নিউমোনিয়া
*ডায়রিয়া ও বমি
*বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)
*এই জটিলতাগুলো কখনও কখনও প্রাণঘাতীও হতে পারে।
 
লক্ষণগুলো দেখার দেয়ার পরের পদক্ষেপ:
 
শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু এটি অত্যন্ত সংক্রামক, তাই প্রয়োজনে চিকিৎসককে বাসায় আসার অনুরোধ করা যেতে পারে। আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৪ দিন আলাদা রাখতে হবে, বিশেষ করে র‍্যাশ ওঠার পর।
 
চিকিৎসা ও যত্ন:
 
হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তবে সঠিক যত্নে শিশুকে সুস্থ করা যায়। চিকিৎসকরা এই সময়ে শিশুর যত্ন নেয়ার পরামর্শ দেয়ার বিষয়ে জানান এই সময়ে-
 
*পর্যাপ্ত বিশ্রাম
*বেশি করে পানি ও তরল খাবার
*পুষ্টিকর খাবার
*চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে। 
 
মনে রাখতে হবে হাম প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর হলো টিকা। এছাড়াও ভিড় এড়িয়ে চলা। সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা।  মাস্ক ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ বলছেন চিকিৎসকরা।  
 
হাম বনাম অ্যালার্জি:
 
অনেকেই হামের র‍্যাশকে অ্যালার্জি মনে করেন। তবে পার্থক্য হলো—
 
*অ্যালার্জি সংক্রামক নয়
*হাম অত্যন্ত সংক্রামক
*তাই লক্ষণ দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই নিরাপদ।
 
হাম সাধারণ একটি রোগ মনে হলেও এটি অবহেলা করার মতো নয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল রূপ নিতে পারে। তাই সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাই হতে পারে আপনার সন্তানের সুরক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মনে রাখবেন প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।  
 
কে ঝুঁকিতে আছে?
যদিও হাম শৈশব সংক্রমণের সাথে জড়িত, প্রাপ্তবয়স্কদের যাদের টিকা দেওয়া হয়নি তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
 
২০ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের গুরুতর জটিলতা হতে পারে যেমনটি ছোট বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায় কারণ এই সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস এবং অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা যায়।
 
যদি একজন ব্যক্তি টিকা দেওয়ার অবস্থা সম্পর্কে অনিশ্চিত হন, তবে তাকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার এবং টিকার অন্তত একটি ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই সম্পর্কিত আরো