জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এবছরের প্রতিপাদ্য “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”- বাস্তবায়নের পথে অন্যতম বড় বাধা অস্বাস্থ্যকর খোলা ড্রামে বাজারজাতকৃত ভোজ্যতেল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা ড্রামে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সাধারণত অনুপস্থিত বা অপর্যাপ্ত থাকে। কেমিক্যাল পরিবহনে ব্যবহৃত নন-ফুড গ্রেডেড ড্রামে ভোজ্যতেল বাজারজাত করা হয়। একই ড্রাম বারবার ব্যবহারের ফলে তেল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, পাশাপাশি ভেজাল মেশানোর সুযোগও বেড়ে যায়। এর ফলে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একইসাথে শিশু ও নারীদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বেশিরভাগ প্যাকেটজাত তেল নিরাপদ এবং ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ। তবে স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে আলো প্রতিরোধী অস্বচ্ছ মোড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যরশ্মিসহ যেকোন আলো, বাতাস ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে তেলে ভিটামিন ‘এ’ কমে যায় এবং তেলও ধীরে ধীরে নষ্ট হয়।
জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১৯-২০ অনুযায়ী, ০৬-৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ৫০.৯ শতাংশ অর্থাৎ দুই জনে একজন শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিতে ভুগছে। সরকার ২০১৩ সালে আইন করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ ব্যতীত ভোজ্যতেল বাজারজাত নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বাজারজাতকরণ আইন বাস্তবায়নে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “ভিটামিন সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল জনগণের পুষ্টি ঘাটতি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি কার্যকর উপায়। খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।”