২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, আর আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ। ওই অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।
এদিকে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। ফলে জুন মাসেই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। তবে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় জুনে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।
ভ্যাট খাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার ১১০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এতে ঘাটতি হয়েছে ২৮ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ওই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সংস্থাটিকে ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।