ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে ২০ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের হারুন মিয়ার ছেলে ৭ মাস বয়সী মোস্তাকিমকে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটি হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়াসহ হৃৎপিণ্ডের অকৃতকার্যতায় মারা যায়।
গত ২৩ এপ্রিল রাত ১১টার পর জামালপুরের মাদারগঞ্জের সাফায়েত হোসেনের ৪ মাস বয়সী মেয়ে সাইফাকে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার পর শিশুটি হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় মারা যায়।
এছাড়া ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে নেত্রকোণার দূর্গাপুরের শাকিল মিয়ার ৫ মাস বয়সী ছেলে সামিউল্লাহকে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় মারা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ৩২ শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয় ৯২৫ শিশু। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৩১ শিশু। মৃত্যু হয়েছে ২০ শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৪ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৩৬ শিশু।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এক-দু'জন করে হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি হতে শুরু করে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ২৪ ঘণ্টায় নতুন তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন আরও ৩২ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।