আহসান আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল বুধবার রাতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তাঁরা চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। একই সাথে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সামনে থেকে ক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তারা বিক্ষোভ করে প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শেখ মুজিবের ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাংচুর করতে থাকে। পরে বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এরপর ছাত্ররা বিক্ষোভ করে যায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালও হাতুড়ি ও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলেন বিক্ষুব্ধ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা। পরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের অংশ ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এরপর ছাত্ররা যায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে। সেখানেও বুলডোজার দিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে গুড়িয়ে দেয়।
এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে উসকানিমূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন। দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এটির প্রতিবাদে তাঁরা ভাঙচুর করছেন। ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র করছে, তা রুখে দিতে ছাত্র-জনতা এখনো প্রস্তুত আছে। তা হতে দেয়া হবে না কোনো অবস্থাতেই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক ও সদস্য সচিব সাফফাতুল ইসলাম বলেন, ‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আজকে (গতকাল বুধবার) ছাত্রলীগের ব্যানারে জাতির সামনে ভাষণ দিয়েছে। যে আমাদের ভাইদের গুলি করে দেশ থেকে পালিয়েছে, সে কী করে কর্মসূচি ঘোষণা করে। আমরা এ দেশে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার কোনো অস্তিত্ব রাখব না।’ ‘যারা ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল সেসব ফ্যাসিবাদীদের কোনো চিহ্ন বাংলাদেশের মাটিতে রাখতে চাই না। অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।’