সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে হঠাৎ স্ট্রোকে ইমাম ফিরোজুল ইসলামের মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী জহুরা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে নেমে এসেছে অভাবের তীব্র চাপ। চুলা জ্বলবে কি না, সন্তানদের মুখে খাবার জুটবে কি না, প্রতিদিন সেই দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
প্রায় ১৭ বছর ধরে স্থানীয় মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফিরোজুল ইসলাম। তার পেছনে নামাজ পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র দুই বছর, আর বড়টির বয়স ১২ বছর।
স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ি বাড়ি কাজ করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন জহুরা বেগম। কখনো মানুষের বাড়ি থেকে পাওয়া চাল, কখনো সামান্য খাবারই হয়ে উঠছে তাদের ভরসা। দুই বছরের শিশুকে দুধ কিনে খাওয়ানোর সামর্থ্যও নেই তার। বাধ্য হয়ে কখনো পানি ও লবণ মিশিয়ে শিশুটিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হয়।
জহুরা বেগম বলেন, দুই বছর ধরে সন্তানদের মাছ-মাংস খাওয়াতে পারেননি। ডাল, শাকপাতা আর ভাত দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। ছোট সন্তানটি কয়েক দিন ধরে দুধের জন্য কান্না করলেও অর্থের অভাবে দুধ কিনে দিতে পারছেন না।
সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝাও এখন এই পরিবারের বড় সংকট। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বসতবাড়ি করতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ফিরোজুল ইসলাম। কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধের আগেই তিনি মারা যান। এখন আয় নেই, সঞ্চয় নেই, অথচ মাথার ওপর রয়েছে ঋণের চাপ।
অভাবের কারণে বড় সন্তানটির পড়াশোনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে দারিদ্র্যের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবুও পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে শিশুটি। সে জানায়, ভালোভাবে পড়াশোনা করে অনেক দূর যেতে চায়। কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে মাছ-মাংসসহ ভালো খাবারও তাদের ভাগ্যে জোটে না।
পরনের কাপড়ও অনেক সময় জোটে মানুষের দেওয়া পুরোনো পোশাক থেকে। বাবার জীবদ্দশায় বাজার থেকে ভালো খাবার আসত। এখন বাবাকে হারিয়ে শুধু সাদা ভাতেই দিন কাটে বলে জানায় শিশুটি।
চার সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে যাওয়া জহুরা বেগম মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ খুঁজছেন। একদিকে সন্তানদের ক্ষুধা, অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও সংসারের খরচ-সবকিছু সামলে কতদিন তিনি একা লড়তে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ফিরোজুল ইসলামের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সামান্য সহায়তাও হয়তো এই এতিম শিশুদের মুখে ফিরিয়ে দিতে পারে একবেলার খাবার ও একটু হাসি।