সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী - জ্বালানি তেল পাচার রোধ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই মূল্য সমন্বয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শান্তি দিবস-২০২৬ উদযাপন করল জেএমআই গ্রুপ সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি - বেনাপোলে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার টাকা, দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার শঙ্কা মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড - তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়লো আরও ৫ দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডকে আরও তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রদূত গ্যালাক্সি এ৩৭ ৫জি ও গ্যালাক্সি এ৫৭ ৫জি-তে স্যামসাংয়ের ক্যাশব্যাক অফার নান্দাইলে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন দেশের এসইউভি বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলো দীপাল এস০৫ পিএইচইভি রেফ্রিজারেটরের যে যত্নগুলো নেয়া প্রয়োজন
advertisement
সারাদেশ

ইমামের মৃত্যু, ৪ সন্তান নিয়ে রীতিমতো পানি খেয়েই দিন কাটছে অভাগী স্ত্রীর

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে হঠাৎ স্ট্রোকে ইমাম ফিরোজুল ইসলামের মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী জহুরা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে নেমে এসেছে অভাবের তীব্র চাপ। চুলা জ্বলবে কি না, সন্তানদের মুখে খাবার জুটবে কি না, প্রতিদিন সেই দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।

প্রায় ১৭ বছর ধরে স্থানীয় মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফিরোজুল ইসলাম। তার পেছনে নামাজ পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র দুই বছর, আর বড়টির বয়স ১২ বছর।

স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়ি বাড়ি কাজ করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন জহুরা বেগম। কখনো মানুষের বাড়ি থেকে পাওয়া চাল, কখনো সামান্য খাবারই হয়ে উঠছে তাদের ভরসা। দুই বছরের শিশুকে দুধ কিনে খাওয়ানোর সামর্থ্যও নেই তার। বাধ্য হয়ে কখনো পানি ও লবণ মিশিয়ে শিশুটিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হয়।

জহুরা বেগম বলেন, দুই বছর ধরে সন্তানদের মাছ-মাংস খাওয়াতে পারেননি। ডাল, শাকপাতা আর ভাত দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। ছোট সন্তানটি কয়েক দিন ধরে দুধের জন্য কান্না করলেও অর্থের অভাবে দুধ কিনে দিতে পারছেন না।

সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝাও এখন এই পরিবারের বড় সংকট। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বসতবাড়ি করতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন ফিরোজুল ইসলাম। কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধের আগেই তিনি মারা যান। এখন আয় নেই, সঞ্চয় নেই, অথচ মাথার ওপর রয়েছে ঋণের চাপ।

অভাবের কারণে বড় সন্তানটির পড়াশোনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে দারিদ্র্যের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবুও পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে শিশুটি। সে জানায়, ভালোভাবে পড়াশোনা করে অনেক দূর যেতে চায়। কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে মাছ-মাংসসহ ভালো খাবারও তাদের ভাগ্যে জোটে না।

পরনের কাপড়ও অনেক সময় জোটে মানুষের দেওয়া পুরোনো পোশাক থেকে। বাবার জীবদ্দশায় বাজার থেকে ভালো খাবার আসত। এখন বাবাকে হারিয়ে শুধু সাদা ভাতেই দিন কাটে বলে জানায় শিশুটি।

চার সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে যাওয়া জহুরা বেগম মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ খুঁজছেন। একদিকে সন্তানদের ক্ষুধা, অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও সংসারের খরচ-সবকিছু সামলে কতদিন তিনি একা লড়তে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ফিরোজুল ইসলামের পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সামান্য সহায়তাও হয়তো এই এতিম শিশুদের মুখে ফিরিয়ে দিতে পারে একবেলার খাবার ও একটু হাসি।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ