শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
লায়ন্স ক্লাব অফ ঢাকা প্রটেস্টিং ভয়েজের উদ্যোগে বিনামূল্যে দাঁতের চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মেঘনা ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি ব্যস্ত কর্মজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনবে আল্ট্রা ওয়াইড ওডিসি মনিটর পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে দুই তলা থেকে লাফিয়ে পালাল আসামি দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই : খাদ্যমন্ত্রী সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী - মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই উন্মুক্ত হবে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী - তিন বছরে বন্ধ হয়েছে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর আইএফআইসি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট : সরকারের ব্যর্থতা, নাকি সাবোটাস !
advertisement
সারাদেশ

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। সম্প্রতি তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে তিনি আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন। এরপর একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ধীরে ধীরে ওই সন্ত্রাসী চক্রের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতৃত্বে পরিণত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং দুবাই থেকে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করতেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের নাম সামনে আসে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

এর দুই দিন পর নগরের চন্দনপুরা এক্সেস রোডে অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অফিস থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকাসহ একটি ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ঘটনার পর র‍্যাব ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ