সাইফুল ইসলাম তানভীর, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সঙ্গে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম সাহরাইল-শোল্লা সড়ক আজ সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল মোল্লা বাড়ি থেকে শোল্লার খতিয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে ইট-পিচ, সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানা-খন্দ।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীরা প্রতিদিনই ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। হাঁটা ছাড়া প্রায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না, বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় ভ্যান ও অটোরিকশায় পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
অন্যদিকে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক সমস্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে অসুস্থদের হাসপাতালে নেওয়াই এখন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সড়কটির এই করুণ দশার জন্য মূলত দায়ী অবৈধ বালু ও মাটিবাহী ড্রামট্রাক ও মাহিন্দ্র ট্রলির বেপরোয়া চলাচল। এসব ভারী যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করায় অল্প সময়েই সড়কের পিচ উঠে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব ও অবহেলায় বর্তমানে সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী এ বিষয়ে আগেই প্রশাসনের কাছে গণস্বাক্ষরসহ অভিযোগ জমা দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সড়কটির নিয়মিত ব্যবহারকারী মোস্তফা কামাল ফখরুল, ইসমত আরা, সোলাইমান দেওয়ান বিকাশ, মো. বাচ্চু মিয়া, রমিজ উদ্দিন, রুবেল হোসেন, আলী হোসেন, আব্দুল হামিদ, মৌসুমি আক্তার ও মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ বছরের পর বছর ভেঙেচুরে পড়ে আছে। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, স্কুল-কলেজে সন্তানদের যাতায়াত, রোগী পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই আমরা মারাত্মক সমস্যায় আছি।”
সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “চলতি অর্থ বছরে সড়কটি মেরামতের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সড়কটি প্রসস্থ ও শক্তিশালী করনের কাজটিও ডিপিপি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । প্রস্তাবনাগুলো গৃহীত হলে মেরামত ও প্রশস্ত করনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


