নিজস্ব প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের পূর্ব পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া বংশী নদীর ফোর্ডনগর এলাকায় খনন কাজ চলছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নদী খননের মাটি মজুদ রাখা নিয়ে এলাকাবাসী আপত্তি জানিয়েছে। আকতার ফার্ণিচারের দখলে নেয়া বিরোধপূর্ণ ওই খাস জমিতে বিআইডব্লিউটিএ মাটি ভরাটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ইতিমধ্যেই পাইপ ফেলে মেশিনারীজ এনে জনবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুদৃষ্টি না দিলে ওই জায়গা মাটি ভরাট করে তাদের দখলে নিবেন আকতার ফার্ণিচার। তবে এ নিয়ে প্রতিবাদমুখর বাসিন্দা ও আকতার ফার্ণিচারের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করছেন নদী তীরবর্তী লোকজন।
সরেজমিনে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে আকতার ফার্ণিচারের দখলে নেয়া জায়গাটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সেখানে আকতার ফার্ণিচারকে ওই জমিতে সকল কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে লাল নিশান লাগিয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ ওঠেছে,বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্টরা খননকৃত মাটি আকতার ফার্ণিচার ফ্যাক্টরির কাছে বিক্রির পায়তারা করছেন। এ সুযোগে খাস জমি দখল করা প্রতিষ্ঠানটি পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। একদিকে খাস জমি দখল অন্যদিকে সেই জমিতেই মাটি ভরাট। ইতিপূর্বে সরকারি ওই সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে আকতার ফার্ণিচার প্রশাসনের আপত্তির মুখে পিছু হটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উদাসীনতায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নদী তীরবর্তী ওই জমিতে মাটি ভরাটের চেষ্টা করছে আকতার ফার্ণিচার।
এদিকে,নদী সিকস্তি খাস জমিতে মাটি ভরাট বাধা দিয়ে কোন ফল না পেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জনৈক মো. মুরছালিন গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) মোঃ হাবেল উদ্দিন জানিয়েছেন, সাত কিলোমিটার নদী খননের কাজ চলছে। সরকারি বিধি মোতাবেক ড্রেজিংয়ের সরঞ্জামাদি ও উত্তোলিত মাটি রাখার জন্য দুইটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কারো জায়গা ভরাটের উদ্দেশ্যে নয়। এলাকাবাসীর দায়ের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,জনৈক ব্যক্তি নদী খননের মাটি দিয়ে তার জায়গা ভরাটের অসৎ উদ্দেশ্যে নামে-বেনামে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আকতার গ্রুপের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত মো. আক্তারুজ্জামান অবৈধভাবে মাটি ভরাটের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি জীবনে কোনো দিন দুই নম্বরী কাজ করি নাই। ২৫ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি ছিল সেটা গভর্নমেন্ট আমার কাছে বাজার মূল্যের চেয়ে দেড় গুণ বেশি দামে বিক্রি করেছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী খাস জমিতে মাটি ফেলার পরে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।


