স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ৩৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং মিডল অর্ডার সালমান আলি আগার অবিশ্বাস্য এক জুটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়ার ইতিহাস গড়লো পাকিস্তান।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ৩৫২ রানের বিশাল লক্ষ্য ছয় বল ও ছয় উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় পাকিস্তান। এটি ওয়ানডেতে রান তাড়ায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয়।পাশাপাশি চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের ফাইনালেও উঠে গেল পাকিস্তান। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান।
আগের ম্যাচে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে গদ্দাফি স্টেডিয়ামে ৭৮ রানে হেরেছিলেন রিজ়ওয়ানরা। সেই ধাক্কা সামলে শুধু ঘুরে দাঁড়ানোই নয়, সালমান (১৩৪) ও রিজ়ওয়ান (অপরাজিত ১২২) জুটিতে ২৬০ রান তুলে দেন। রান তাড়া করতে নেমে তাঁদের সর্বাধিক রানের জুটি। ভেঙে দেন ইমরান ফারহাত ও মোহাম্মদ হাফিজ়-এর ২০১১ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অপরাজিত ২২৮ রানের জুটি। পাশাপাশি পাকিস্তানের এর আগে সর্বাধিক রান তাড়া করে জেতার নজির ছিল ২০২২ সালে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। সে বার ৩৪৯ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।
তবে ম্যাচে তুমুল উত্তেজনা দেখা যায় এক সময়। এমনিতেই এই ম্যাচ ঘিরে মারাত্মক চাপ ছিল পাকিস্তানের। ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের ফাইনালে উঠতে জিততেই হত রিজ়ওয়ানদের। হয়তো সে জন্যই মেজাজ হারান শাহিন আফ্রিদি। দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথিউ ব্রিৎজ়কের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। এমনকি ধাক্কাধাক্কিও।
ঝামেলার শুরু ২৮তম ওভারে। শাহিনের শেষ দুটি বল খেলছিলেন ব্রিৎজ়কে। পঞ্চম বলটা অন সাইডে রক্ষণাত্মক শট মারেন। তার পরেই লাফিয়ে উঠে বোঝাতে থাকেন মারার মতো বল ছিল সেটা। তাতেই রেগে যান শাহিন। দাঁড়িয়ে পড়ে ব্যাটসম্যানের দিকে এগিয়ে যান। দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। টেম্বা বাভুমা, রিজ়ওয়ান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ওই ওভারের শেষ বল অন-সাইডে খেলে এক রান নিতে দৌড়ন ব্রিৎজ়কে। তিনি যখন দৌড়াচ্ছিলেন, মাঝপথেই দাঁড়িয়ে পড়েন শাহিন। সেইসময় দু’জনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। আসলে দৌড়নোর পথে চলে আসেন শাহিন। শেষমুহূর্তে সেটা বুঝে কিছুটা সরে যান ব্রিৎজ়কে। তার পরেও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে একেবারে মন্দ পারফর্ম করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটির কেউ তিন অঙ্কের দেখা না পেলেও ৮০ রানের বেশি করেছেন তিন ব্যাটসম্যান। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৭ রান আসে হাইনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটে। অধিনায়ক ও ওপেনার টেম্বা বাভুমা করেন ৮২ রান। ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন আগের ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে দেড়শ করা ম্যাথু ব্রিৎজকে। এই তিনজনের বিস্ফোরক ইনিংসগুলোতে চড়ে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫২ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাকিস্তানের পক্ষে খরুচে বোলিংয়ে ৬৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন শাহিন আফ্রিদি। তবে রানপাহাড় গড়ে স্বস্তিতেই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯১ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সুবাসও জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি।
এই ম্যাচে ৩৫৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর দুই ওপেনার ফাখর জামান আর বাবর আজম মিলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ১৯ বলে ২৩ রান করে এ সময় আউট হয়ে যান বাবর আজম। এরপর মাঠে নেমে ফখর জামানের সঙ্গে জুটি বাধেন সউদ শাকিল। ১৬ বলে ১৫ রান করে তিনিও আউট হয়ে যান।
পাকিস্তানের দলীয় ৯১ রানের মাথায় ২৮ বলে ব্যক্তিগত ৪১ রান করে ফাখর জামান আউট হন। পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ৯১ রান থেকে ৩৫১ রান পর্যন্ত ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান এ দু‘জন। ১০৩ বলে ১৩৪ রানের বিশাল ইনিংস খেলে আউট হন সালমান আলি আগা। ১৬টি বাউন্ডারি ও ২টি ছক্কার মার মারেন তিনি। তার আগে ৮৭ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলক পূর্ণ করেন আলি আগা।
আর ১২৮ বলে ১২২ রান করে অপরাজিত থেকে জয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ওয়ানডেতে রিজওয়ানের এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। রিজওয়ান ও আলি আগার ২৬০ রানের জুটি পাকিস্তানের হয়ে রেকর্ড। পাকিস্তানের ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪র্থ উইকেটে এটাই সর্বোচ্চ রান। এর আগে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ ২০৬ রান তুলেছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ এবং শোয়েব মালিক।
আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটায় একই মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড।