মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
খেলাধুলা

তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর জিতলেন আলেক্সিয়া

তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। চোটের কারণে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ছিটকে পড়ার পর নারী ফুটবলের শীর্ষে তাঁর অসাধারণ প্রত্যাবর্তনকে মুকুট পরাল এই পুরস্কার।  

লন্ডনে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা নারী ফুটবলার নির্বাচিত হন পুতেয়াস।

বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য দলের সৃজনশীল প্রাণভোমরা হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে বিশ্বের সেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন পুতেয়াস।

কিন্তু ২০২২ সালের ইউরো জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের প্রস্তুতির সময়ই লিগামেন্টে গুরুতর চোট পান তিনি। এতে বিশ্বতারকা হয়ে ওঠার পথে তাঁর অগ্রযাত্রা থমকে যায়।

চোট কাটিয়ে পরের বছর স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে সীমিত ভূমিকা রাখেন পুতেয়াস। ক্লাব ও জাতীয় দল- উভয় পর্যায়েই সতীর্থ আইতানা বোনমাতির আড়ালে পড়ে যান তিনি। নিজের সেরা ছন্দ ফিরে পেতে তাঁর প্রায় দুই বছর সময় লাগে।

গত মাসে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতেয়াস বলেন, “চোটে পড়ার পর থেকে আমি প্রতিটি মুহূর্ত এমনভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করছি, যেন সেটিই আমার শেষ মুহূর্ত। কারণ, আপনি জানেন না, এমন ঘটনা আবার ঘটবে কি না।”

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর জিতে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বোনমাতি। তবে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনিও মাঠের বাইরে চলে যান।

এরপর পুতেয়াসের ওপর আবারও প্রত্যাশার চাপ বাড়ে। সেই চ্যালেঞ্জ উতরে গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে দুর্দান্তভাবে চ্যাম্পিয়নন্স লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন তিনি।

পুতেয়াস বলেন, “আমি কখনোই মনে করিনি যে ব্যালন ডি’অরের ট্রফিটি ‘আমারই’। আগে একবার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে এবার আমি এটি আরও বেশি উপভোগ করতে পারছি।”

কাতালোনিয়ায় সম্ভাব্য সবকিছু অর্জনের পর নতুন অভিযানে নামেন পুতেয়াস। যোগ দেন লন্ডন সিটিতে।

মার্কিন ব্যবসায়ী মিশেল ক্যাংয়ের মালিকানাধীন লন্ডন সিটি লায়নেসেস ইংল্যান্ডের শীর্ষ নারী ফুটবল লিগে একমাত্র সম্পূর্ণ স্বাধীন ক্লাব হিসেবে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

৩২ বছর বয়সী পুতেয়াস বলেন, “এটি আমার জীবনে সম্পূর্ণ পরিবর্তন। সংস্কৃতি, ভাষা, নতুন দেশ ও নতুন শহরে বসবাস- সবকিছুই প্রতিদিন শেখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

“আমি জানতাম, বার্সেলোনায় আমার সময় শেষ করতে হলে পরবর্তী অধ্যায়ে আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করার খুব একটা অর্থ থাকবে না। মূলত, সেটি অসম্ভবও।

“আমার এমন কিছু দরকার ছিল, যা সম্পূর্ণ আলাদা। এটি প্রায় নতুন একটি ক্লাব, যেখানে সবকিছুই এখনো গড়ে তোলা বাকি। তাই আমি আমার জয়ের সংস্কৃতি ও মানসিকতা এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”

ইংলিশ নারী সুপার লিগে ইতোমধ্যেই পুতেয়াসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। পয়েন্ট তালিকায় লন্ডন সিটি রয়েছে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির ঠিক পেছনে, ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্সেনালের ওপরে।

আগামী বছর বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার ক্ষেত্রে স্পেনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে এই দলবদলে। চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় না খেলার কারনে স্পেনের এই তারকার ওপর ম্যাচের চাপ তুলনামূলক কম থাকবে।

পুতেয়াস বলেন, “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়টি আমার বিবেচনায় ছিল। সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। আপাতত প্রতিদিনের কাজেই আমার মনোযোগ। তবে আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের পরিবেশই আমাকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে।”

আপাতত তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি লন্ডনে নতুন জীবন গড়ে তোলার পালা পুতেয়াসের।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ