বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
নিটল ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ ইউনাইটেড কমার্শিয়ালের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ৪ চিকিৎসক বরখাস্ত জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি - হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি শ্বাসরোধে হত্যা ভারতের জেল থেকে মুক্ত ৫ বাংলাদেশি নারী, বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩ ফ্রান্সের কোচ হওয়াই ছিল একমাত্র স্বপ্ন, দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন জিদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী
advertisement
খেলাধুলা

ফ্রান্সের কোচ হওয়াই ছিল একমাত্র স্বপ্ন, দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন জিদান

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফরাসি ফুটবল দলের ডাগআউটে পা রাখলেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক আড়ম্বরপূর্ণ ঘোষণায় ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) দিদিয়ের দেশ্যমের উত্তরসূরি হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী জিদানকে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ফরাসি ফুটবলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে ফ্রান্স চতুর্থ স্থান অর্জন করার মধ্য দিয়ে ইতি ঘটে ২০১২ সাল থেকে চলা দিদিয়ের দেশ্যমের দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়ের। দেশ্যমের সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৮ সালে, যখন ফ্রান্স তার ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও তার অধীনেই রানার্সআপ হয়েছিল ফরাসিরা।

দেশ্যমের প্রস্থানের পর থেকেই এই হাই-প্রোফাইল পদের জন্য সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সফল কোচ জিদান। ২০২১ সালে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকেই জাতীয় দলের কোচ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের প্রথম বৈঠক হয়। এর আগেই দেশ্যম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত চার বছরের জন্য ফরাসিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন জিদান।

নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি মিডফিল্ডার। সংবাদ সম্মেলনে জিদান বলেন, “আমার জন্য এটি অপরিসীম আনন্দের... ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হতে পারা। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো আর কোনো শব্দ আমার নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেকে সংযত রাখছি, কারণ আমার ভেতরে অনেক আবেগ কাজ করছে। আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। এটাই আজ আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।”

দীর্ঘদিন ক্লাব ফুটবলের বড় বড় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জিদান জানান, “গত চার-পাঁচ বছরে বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু ফ্রান্স জাতীয় দলের জন্য আমি সবগুলোই ফিরিয়ে দিয়েছি। ফ্রান্সের কোচের চাকরিটাই ছিল একমাত্র দায়িত্ব, যা আমি চেয়েছিলাম।”

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য দুটি গোল করে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন জিদান। এছাড়া ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ফরাসি দলেও তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় তারকা। কোচিং ক্যারিয়ারেও তিনি নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের মতো কোচ হিসেবেও তিনি কেবল রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই কাজ করেছেন।

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েন জিদান, যা ফুটবল ইতিহাসের আধুনিক যুগে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এক কীর্তি। ক্লাব ফুটবলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার পালা তার সামনে।

ক্লাব আর জাতীয় দলের কোচিংয়ের পার্থক্য নিয়ে জিদান বলেন, “নিশ্চিতভাবেই এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কাজ। ক্লাব ফুটবলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। এখন এটি আমার জন্য নতুন কিছু, কিন্তু নতুন এই দায়িত্বে আমি মোটেই ভীত নই।’’

উল্লেখ্য, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদান তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ লরেন্ট ব্ল্যাঙ্ক ও দিদিয়ের দেশ্যমের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ব্ল্যাঙ্ক।

ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জিদানের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ কথাই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। দিয়ালো জানান, “আমাদের আলোচনার সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘সভাপতি, আমি জানি কীভাবে জিততে হয়।’ ওই কথা শোনার পর আমি এমন একজনকে দেখেছি, যার মধ্যে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মবিশ্বাস দুটোই রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে আমাদের জাতীয় দলকে সফল রাখতে ঠিক এমন মানুষই দরকার।”

প্যারিসে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠানে নিয়োগ ঘোষণার পর এফএফএফ সদর দপ্তরের বাইরে অপেক্ষমাণ শত শত সমর্থকের ভিড় জমে যায়। সমর্থকদের নিরাশ করেননি জিদান; তিনি তাদের অটোগ্রাফ দেন এবং ভালোবাসার জবাব দেন হাসিমুখে।

ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে জিদানের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে খুব বেশি দেরি নেই। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগে তুরস্কের মাঠে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে ফরাসিরা। এরপর আগামী ২ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম ডাগআউটে দাঁড়াবেন জিনেদিন জিদান।

নিজের নতুন লক্ষ্য সম্পর্কে জিদান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “এই দল যেন জয়ী হতে থাকে, সে জন্য আমি সর্বস্ব উজাড় করে দেব। এই ফ্রান্স দলের জন্য কাজ করা এবং দলকে জয়ের ধারায় রাখাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ