মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
খেলাধুলা

বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় স্পেনের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, মাদ্রিদে বাঁধভাঙা উল্লাস

স্পেনীয় ফুটবলের মুকুটে নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায় যোগ করে দেশে ফিরেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নিউইয়র্ক থেকে মাদ্রিদের মাটিতে পা রেখেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা রাজকীয় অভ্যর্থনার মুখোমুখি হন। লামিন ইয়ামাল, রদ্রি এবং ফেরান তোরেসদের বহনকারী বিমানটি রানওয়েতে পৌঁছানোর পর থেকেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস। দীর্ঘ বিমানভ্রমণের ধকল এড়িয়ে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ হাজারো সমর্থকের ভালোবাসার জবাব দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি ফুটবলাররা।

বিমানবন্দর থেকে রাজকীয় বহর সোজা চলে যায় সারসুয়েলা প্রাসাদে। স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া রাজকন্যাদের সঙ্গে নিয়ে লাল-রঙের জার্সিতে সিক্ত বিশ্বজয়ীদের বরণ করে নেন। রাজপরিবারের সদস্যগণ ট্রফিটি খুঁটিয়ে দেখেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। রাজা ফেলিপে তার ভাষণে উল্লেখ করেন যে, এই ট্রফি শুধু একটি দলের নয়, বরং সমগ্র স্পেনের ঐক্য ও শক্তির বহিঃপ্রকাশ। এই গৌরবময় সাফল্য প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সারসুয়েলার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিজয়ী দল উপস্থিত হয় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উষ্ণ আলিঙ্গনে বরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খেলোয়াড়দের অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে, এই অর্জন গোটা জাতির অখণ্ড মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

দিনের আলো যখন ফুরিয়ে আসার মুখে, ঠিক তখনই শুরু হয় রোমাঞ্চকর ছাদখোলা বাসের বর্ণিল প্যারেড। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় মোনক্লোয়া থেকে যাত্রা শুরু করে বাসটি যখন মাদ্রিদের প্রধান প্রধান সড়ক পার হচ্ছিল, তখন দুপাশের ফুটপাতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বাসের ছাদ থেকে রদ্রি ও ইয়ামালরা উঁচিয়ে ধরেন কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি, আর জবাবে সমর্থকরা ওড়ান স্পেনের পতাকা। আলোর রোশনাই ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো রাজপথ।

প্যারেডের চূড়ান্ত আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মহামিলন ঘটেছিল। জমকালো সংগীতানুষ্ঠান, লেজার শো এবং সমর্থকদের গানে মুখরিত সেই মঞ্চে দলের প্রতিটি সদস্য নেচে-গেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এই দুর্দান্ত স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিতে পারা তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন তাদের পুরোনো সেই মন্ত্র—‘আমরা একসঙ্গে থাকলে অপরাজেয়’। রাজধানী মাদ্রিদের এই বিশাল উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের অন্যান্য প্রদেশেও বিশ্বজয়ীদের বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

 

বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। নিউইয়র্ক থেকে স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে মাদ্রিদে পৌঁছান লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেসসহ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উৎসবের আবহ। পরে রাজপ্রাসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবর্ধনা গ্রহণের পর ছাদখোলা বাসে রাজধানীজুড়ে চ্যাম্পিয়ন প্যারেডে অংশ নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। দিনের শেষভাগে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়োৎসবের মূল আয়োজন।

বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশের মাটিতে ফেরাটা স্পেনের ফুটবলারদের জন্য ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিমানবন্দরে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একনজর দেখার জন্য সকাল থেকেই অপেক্ষা করেন তারা। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি থাকলেও সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিতে ভুল করেননি ইয়ামাল, রদ্রি ও তাদের সতীর্থরা।

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির শুরু হয় মাদ্রিদের সারসুয়েলা প্রাসাদে। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে স্বাগত জানান স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ, রানি লেতিসিয়া এবং রাজকন্যা লিওনোর ও সোফিয়া। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ট্রফিও ঘুরে দেখেন রাজপরিবারের সদস্যরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজা ফেলিপে বলেন, জাতীয় দল যখন মাঠে নামে, তখন পুরো স্পেনই তাদের সঙ্গে খেলে। এই শিরোপা কেবল একটি ফুটবল দলের অর্জন নয়, এটি গোটা দেশের গর্ব। ফাইনালে দলের পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত প্রত্যেক স্প্যানিশ নাগরিকের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজপ্রাসাদ থেকে পুরো দল যায় মোনক্লোয়া প্রাসাদে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন শুধু ফুটবলারদের নয়, স্পেনের প্রতিটি মানুষের। জাতীয় দলের নিবেদন, কঠোর পরিশ্রম ও অসাধারণ পারফরম্যান্সই দেশকে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব এনে দিয়েছে।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন প্যারেড। মোনক্লোয়া প্রাসাদ থেকে ছাদখোলা বাসে রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে লাখো সমর্থক করতালি, পতাকা ও গান দিয়ে প্রিয় ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। বাসের ওপর থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেস ও তাদের সতীর্থরা।

প্যারেডের শেষ গন্তব্য ছিল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার। সেখানেই আয়োজন করা হয় বিজয় উৎসবের মূল অনুষ্ঠান। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা, আলোকসজ্জা ও ডিজের তালে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খেলোয়াড়রাও মঞ্চে উঠে সমর্থকদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে উদযাপনে অংশ নেন।

উৎসবমঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এই দলের কোচ হতে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের একটি। তিনি বলেন, এই সাফল্যের পেছনে শুধু খেলোয়াড় নয়, দলের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। দুই বছর আগে বলা একটি কথাও তিনি আবার স্মরণ করিয়ে দেন ‘আমরা একসঙ্গে থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী।’

স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সিবেলেস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০ লাখ সমর্থক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে জড়ো হন। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে দিনভর রাজধানী মাদ্রিদ ছিল উৎসবের নগরী। তবে স্পেনে উদযাপন এখানেই শেষ নয়। দেশের বিভিন্ন শহরেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্মানে পৃথক আয়োজন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ