বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার Price Sensitive Information of Mutual Trust Bank PLC আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি : আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফল জালিয়াতির মামলায় পুলিশের চার্জশিটে বড় গরমিল ঢাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের আরও ২টি এটিএম বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
advertisement
খেলাধুলা

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস

দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও সিলেট শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। এর আগে মিরপুর টেস্টেও জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এর ফলে ঘরের মাঠে এবারই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। 

বুধবার (২০ মে) সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ১২০ রান, হাতে ছিল তিনটি উইকেট। তবে দিনের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে তাদের জয়ের আশা ছিল রিজওয়ান–সাজিদ জুটির ওপর। তবে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। 

পঞ্চম দিনের শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান ধৈর্য ধরে খেলতে থাকলেও সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেই সুযোগে কিছুটা চাপ তৈরি করে পাকিস্তান।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় তাইজুল ইসলামের স্পিনে। গুরুত্বপূর্ণ অষ্টম উইকেটের জুটি ভাঙেন তিনি। সাজিদ খানকে আউট করে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে সাজিদ করেন ৩৬ বলে ২৮ রান।

এরপর দ্রুতই বাকি উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ হোয়াইটওয়াশ সম্পন্ন করল টাইগাররা।

এর আগে ঢাকা টেস্টেও ১০৪ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে পাকিস্তানকে প্রথমবার ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

দুই দলের শেষ দেখায়ও অবশ্য ফলাফল একই ছিল। ২০২৪ সালে সেবার পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল টাইগাররা। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি একটি বিরল রেকর্ড। প্রথমবার কোনো দলকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। এটাই প্রথম টেস্টে কোনো দলের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ।

গতকালই জয়ের উপলক্ষ্য তৈরি করে রেখেছিল বাংলাদেশ। অপেক্ষা ছিল আজ কতদ্রুত সেটি করতে স্বাগতিকরা। শুরুর দিকে অবশ্য কিছুটা হতাশই হতে হচ্ছিল। সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করছিল বাংলাদেশ। তবে ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগেনি। দিনের প্রথম সেশনেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

৯৩তম ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন সাজিদ খান। কিন্তু সেটি নিতে পারেননি কেউ। উইকেটকিপার লিটন দাস ও শর্ট স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তাইজুল ইসলামের মাঝে বলটা বেশ কিছুক্ষণ শূন্যে ভেসে ছিল। লিটন একটু এগিয়ে গেলেও তাইজুল নড়েননি। যে কারণে তাইজুলের ওপর কিছুটা রাগই করেছিলেন লিটন।

তিন ওভার পরে এসে সেই তাইজুলই বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান। তাইজুলের টার্ন করে বেড়িয়ে যাওয়া বল সাজিদের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় প্রথম স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। সেটি তালুবন্দি করতে ভুল করেননি শান্ত। ৩৬ বলে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ। তাকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৭তম ফাইফার তুলে নেন তাইজুল।

পরের ওভারে এসে পথের কাঁটা দূর করেন শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে চলে যাওয়া পাকিস্তানের আশার বাতি হয়ে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তিনি। ১৬৬ বলে ৯৪ রান করে রিজওয়ান ফিরলে পাকিস্তানের সব আশা নিভে যায়।

পরের ওভারে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তাইজুল। শেষ ব্যাটার হিসেবে খুররাম শেহজাদ ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। ৬ বল খেলে তিনি কোনো রান করতে পারেননি। বাংলাদেশ উল্লাসে মেতে ওঠে ঐতিহাসিক জয়ে।

এর আগে ৩ উইকেট হাতে রেখে ৩১৬ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান আর সাজিদ খান ৯ বলে ৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ৫৭.৪ ওভারে ২৩২/১০

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১০২.২ ওভারে ৩৯০/১০

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮/১০ (আজান ২১, ফজল ৬, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭, শাকিল ৬, সালমান ৭১, হাসান ০, সাজিদ ২৮, রিজওয়ান ৯৪, খুররম ০, আব্বাস ০*; তাসকিন ১২-১-৬২-০, শরিফুল ১২-৪-২৯-১, নাহিদ ১৮-৩-৭১-২, মিরাজ ২০-১-৬২-১, তাইজুল ৩৪.২-৪-১২০-৬,  মুমিনুল ১-০-৩-০)

ফলাফল : বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।

সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ : লিটন দাস।

প্লেয়ার অব দ্যা সিরিজ : মুশফিকুর রহিম।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ